স্বরূপে ফিরেছে বিএনপি-জামায়াত!

এই ফেরা কোনো শুভ বার্তা নিয়ে নয়। এই ফেরা পুরনো রুপে ফেরা। ২০১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ সালে প্রতিবাদের নামে রাজপথে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সহিংস ও প্রাণঘাতী হামলা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ও তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা ইত্যাদি।

আমরা দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে মানুষ হত্যার রাজনীতি এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রতিহত করার নামে আগুন সন্ত্রাস করে কিভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

দেশ যখন নির্বাচন উৎসবে মেতে উঠেছে সেই সময় আবার আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি দেখলো দেশবাসী। পল্টনে পুলিশের গাড়িতে কেন হামলা, কার ইশারায় এই আগুন সন্ত্রাস সে নাম আর বলে বোঝানোর দরকার পড়ে না। বিএনপি যখন আন্দোলোনের নামে বহু হুমকি-ধামকি দিয়ে তাদের অযৌক্তিক দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন উগ্র তারেকপন্থিরা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা কোনোভাবে চায় না দেশে একটা সুস্থ পরিবেশে নির্বাচন হোক। তারা চায় না গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকুক, দেশ এগিয়ে যাক।

বিগত সময়ের মতো আবারো যদি বিএনপি-জামায়াত অগ্নি সন্ত্রাসের আন্দোলন করে, তাহলে সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হবে তাদের রাজনীতি। আর দেশের মানুষ বসে থাকবে না। আমার বিশ্বাস এই সন্ত্রাসের দাঁতভাঙা জবাব দেবে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশী-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত।

অগ্নি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করা সময়ের দাবি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উদারতার সুযোগ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়। পাকিস্তানপন্থি বুদ্ধিজীবী আর রাজনীতিবিদদের হাতে দেশটাকে জিম্মি করতে দেয়া যায় না। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়নকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের কঠিনভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

বিএনপি রাজপথে আন্দোলন এবং অবরোধের নামে দিনের পর দিন মানুষকে অবরুদ্ধ করে, ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, বিশ্ব ইজতেমা ফেরত মুসল্লিদের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে, বাইতুল মোকাররমে আগুন দিয়ে কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেয়, ঘুমন্ত বাস-ট্রাক ড্রাইভারকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সিএনজি ট্যাক্সিতে আগুন দিয়ে ড্রাইভারকে টেনে হিচড়ে বের করে গায়ে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। এসব স্মৃতি বাঙালি এখনো ভোলেনি আর ভোলা সম্ভবও নয়!

এভাবে আবারো যদি ২০১৩, ১৪, ১৫ সালের মতো বিএনপি-জামায়াত অগ্নি সন্ত্রাস করে তাহলে সেই আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হবে তাদের মানুষ পোড়ানো রাজনীতি। প্রজন্ম ঘরে বসে থাকবে না প্রত্যাশা করি। দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে।

লেখক

এফ এম শাহীন

সাধারণ সম্পাদক, গৌরব ’৭১

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক

মন্তব্য লিখুন :