ভয়াল ৫ মে! মনে পড়ে বাংলাদেশ?

ভয়াল সেই রাত! ঢাকার বুকে একে দিলো ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ক্ষত চিহ্ন। ২০১৩ সালের এই দিনে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থান নিয়ে নারকীয় তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম। ধর্মের নামে এত জঘন্য ভয়াবহ তাণ্ডব, মানুষ খুন, বাঙালি জাতি আর কখনো দেখেনি! বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ভিতরে আগুন দিল, মুসলিমদের হাজার হাজার পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিল। মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে উঠলো রণক্ষেত্র।

বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে এতদিন যারা বিভোর ছিল, আজ তারা আনন্দে আত্মহারা! শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চেও আক্রমণ করা হল, কিন্তু জাগরণ যোদ্ধারা সেই হামলা প্রতিহত করে দিল। ছাত্রলীগ ২৬ মার্চের পর থেকে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচীতে না আসলেও ঐ দিন সবার আগে তারাই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ছাত্রলীগের যোদ্ধারা মৎস ভবনের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হেফাজত শাহবাগে আক্রমণ করতে পারেনি।

তারপরও জামায়াত-হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু ক্যাডার রমনার ভিতর দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের দিকে আসতে চাইলে আমাদের সহযোদ্ধারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাদের প্রতিহত করে। এই দিনে একাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম দেখেছি ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের শক্তি। এই দিনে দেখেছি জাতির সংকটে মহান নেতা প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের হুংকার আর হুশিয়ারি।

১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ করে এবং রাজধানীতে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালায় হেফাজতের কর্মীরা। তারা মতিঝিল, পল্টন ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাতের শত শত দোকান ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করে। তাণ্ডবের শিকার হয় আশপাশের অনেক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। পরদিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চলে। ওই তাণ্ডবের ঘটনায় করা সারা দেশে যে ৮৩টি মামলা হয়েছে, তার মধ্যে ৬২ টির তদন্ত থেমে আছে গত ৬ বছরে।

তাণ্ডবের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের অনেককে চিহ্নিত করা গেছে বলে পুলিশ দাবি করলেও তাণ্ডবকারীদের সবাইকে এখনও চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি ৬ বছরেও! যেভাবে তারা দেশের মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করেছে, সম্পদের ক্ষতি করেছে, আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে তাতে বিচার না হলে এই রাষ্ট্রই অনিরাপদ হবে।

আমরা কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি, সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য অপসারণের ঘোষণা আসার পর হেফাজতের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সংশয়ী হয়ে উঠেছিলাম। আজ সেই সংশয় কাটার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং মৌলবাদী ধর্মান্ধ শক্তিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে এদেশে জঙ্গিবাদের শেকড় গড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যা আগামীতে প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ও ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তে অর্জিত লাল সবুজ পতাকাকে ক্ষতবিক্ষত করবে।

লেখক:
এফ এম শাহীন
সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ
সাধারণ সম্পাদক, গৌরব '৭১

মন্তব্য লিখুন :