ছানোয়ারের উদ্ভাবন: গাড়ি চালক ঘুমালে বা মদ পান করলে বাজবে এলার্ম

গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘুমের ভাব হলে বা মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালালেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে সহযাত্রী চালক ও গাড়ির মালিকের কাছে। এমনকি মাদকাসক্ত অবস্থাতে স্টার্ট নিবে না গাড়ি। ''ড্রাইভার এন্টি স্লিপ এন্ড অ্যালকোহল এ্যালার্ম ডিটেক্ট'' নামে এমনই একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেন।

সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে ও চালকদের গাড়ি চালানোর সময় শারীরিক অবস্থা কি রকম হয় তা জানতে এক বছর চেষ্টা করে সফলতা পান ছানোয়ার।

প্রযুক্তিটি ইত্যিমধ্যেই কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কিল প্রতিযোগিতায় এবং  রংপুরে বিভাগীয় স্কিল প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে। ছানোয়ারের এই সাফল্যে খুশি সহপাঠীরাসহ শিক্ষকগণ।

এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো গাড়ির ড্যাস বোর্ডের সাথে কনসুলিং করে সম্পৃক্ত করা যাবে আইবিলিং ও অ্যালকোহল সেন্সর। চালকের সম্মুক্ষে এই আইবিলিং সেন্সর ১৮০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে চালককে ডিটেক্ট করবে। এছাড়াও গাড়ির সেলফের সাথে সংযুক্ত করা হবে ম্যাগনেটিক রিলে। যা ঘ্রাণ সংবেদনশীল। চালক কোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলেই সার্কিট অন হবে না। ফলে গাড়ি স্টার্ট নিবে না। এই সেন্সরের সাথে সর্বোচ্চ তিনটি মোবাইলে ডাটা সেট করা থাকবে। গাড়ির ড্রাইভার চলন্ত অবস্থায় নেশা গ্রহণ করলে বা ঘুমিয়ে পড়লে তিন সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা এলার্ম মোবাইলে বেঁজে উঠবে। ফলে গাড়ির মালিক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজার চালককে সতর্ক করতে পারবে। এই এলার্ম সিস্টেম দূরপাল্লার গাড়ির ভিতরেও সংযোগ করা যাবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস টেকনোলোজি বিভাগের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ও ছানোয়ারের গাইড টিচার সুমন কুমার সাহা জানান, এই ইনস্টিটিউটে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা ভালো কিছু উদ্ভাবন করতে চায়। কিন্তু একটি প্রজেক্ট তৈরী করতে যে ব্যয় হয় তাদের পক্ষে সেটা সংকুলান করা সম্ভব হয় না। এ ব্যাপারে সরকার বা অন্য কোনো সংস্থা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে আরও ভালো কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব বলে জানান এই শিক্ষক।

স্কিল কম্পিটিশনে ছানোয়ারের প্রযুক্টিটি দেখে উচ্ছসিত জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, গাড়ির মালিকগণ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। ড্রাইভাররা সতর্ক থাকবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী কুড়িগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেনের বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দহিলা বড়হাট পাড়ায়। বাবা আব্দুল আজিজ একজন দূরপাল্লার গাড়ির ড্রাইভার। তার বড় দুই ভাইও একই পেশায় জড়িত। মা ছানোয়ারা বেগম মৃত।

নতুন এই প্রযুক্তির বিষয়ে জানালে কুড়িগ্রাম জেলা বাস ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান রাছেল বলেন, খুব ভালো খবর। গাড়ি চালানোর সময় চালকের মাদক  গ্রহণ ও ঘুমের ভাব হয়েছে কি না জানতে পারলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার জন্য সহায়ক হবে।

নিজের নতুন এই আবিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে ছানোয়ার হোসেন জানান, পরিবারে বাবা ও দু'ভাই ড্রাইভারের চাকরি করার বিষয়টি মাথায় রেখে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এই প্রকল্পটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রযুক্তিটি আবিষ্কার করেছি। আমি চাই পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ুক এই নতুন আবিষ্কার।

তিনি সরকারি পলিটেকনিক গবেষণা খাতে অধিক পরিমাণে আর্থীক বরাদ্দেরও দাবি জানান।

মন্তব্য লিখুন :