গ্রামীণফোন-রবি নতুন প্যাকেজ দিতে পারবে না

মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক (কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল) তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। তবে, ব্লক তুলে নিলেও অপারেটর দু’টির এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

এতে গ্রামীণফোন ও রবি নতুন কোনো প্যাকেজ দিতে পারবে না গ্রাহকদের। পাশাপাশি তাদের নেটওয়ার্কের আওতা বাড়ানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিটিআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন পদক্ষেপের কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান জহুরুল হক। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করবো। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেওয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এই টাকা মাফ করার কোনও সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, এই টাকা অপারেটরগুলোর না দেওয়ার যেমন কোনও সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিরও না নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

বিটিআরসি গত ৪ জুলাই ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা পাওনার আদায়ের পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবি আজিয়াটা বারহাদের ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ১৯৯৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ওপর নিরীক্ষা করে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করছে বিটিআরসি। রবির কাছে দাবি করা হচ্ছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে বিলম্বের মাশুল ও সুদও ধরা আছে।

অবশ্য ব্যান্ডউইথ কমানোর ফলে কলড্রপ বেড়ে যায়। পাশাপাশি অনেক জায়গায় ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। প্যাকেজ কিনে ঠিকমতো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারার ক্ষতিপূরণ কী হবে, আদৌ মিলবে কিনা, সে বিষয়েও গ্রাহকদের প্রতি স্পষ্ট কোনো কোনো নির্দেশনা ছিল না বিটিআরসি বা অপারেটরদের।

মন্তব্য লিখুন :