মোবাইল কেনার আগে যে বিষয়টি আপনাকে জানতেই হবে

রেডিয়েশন সবার জন্যই ক্ষতিকারক। মানুষের শরীরে সেলগুলো একে অন্যের সাথে যেভাবে যোগাযোগ করে তাকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত করে এক্সটারনাল রেডিয়েশন। আর এর পরিণতিতে ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে বাচ্চাদের শরীরে ফ্লু্ইড বেশি থাকার কারণে তারা বেশী আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

শুধু রেডিয়েশন কেনো, আমরা যে মোবাইল সেট একেবারে কানের কাছে নিয়ে কথা বলি - এর ফলে ব্রেইন টিউমার হওয়ার আশংকা থাকে। কারণ রেডিয়েশনটা সরাসরি মস্তিষ্কের সংযোগ হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে এ রেডিয়েশন থেকে কানের বা মস্তিষ্কের টিউমার হয়। এছাড়াও মাথাব্যথা, হৃদরোগসহ, ঘুম ঘুম ভাব, নিদ্রাহীনতা কাজের ব্যাঘাত ঘটাসহ অনেকগুলো সমস্যা হতে পারে।

প্রকৌশলী সুমন আহমেদ সাবির বলছেন, যে কোনো ধরণের রেডিয়েশন বা রশ্মিই মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে বাংলাদেশে মোবাইল টাওয়ার এমনকি ঘরের মধ্যে মানুষ যে ওয়াইফাই ব্যবহার করে সেখান থেকে কেমন রশ্মি বিকিরণ হয় তা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি। মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলো থেকেও সরাসরি রেডিয়েশন যাচ্ছে মানবদেহে। অসংখ্য নিম্নমানের সেট বাজারে আছে এবং বাংলাদেশের মানুষ সেগুলো ব্যবহারও করছে। কিন্তু এগুলোর রেডিয়েশন ঝুঁকি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

তাই মোবাইল ফোন ব্যহারের ক্ষেত্রে আগে জেনে নেওয়া উচিত কোন ফোন কেমন রেডিয়েশন ছড়ায়। বিশ্বে কয়েক শতাধিক ফোন কোম্পানি আছে আর বাজারে আছে লাখ লাখ মডেলের ফোন। তাই সব ফোনের তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। সে হিসেবে আপনাকে ফোনটি কেনার আগে জেনে নিতে হবে আপনি যে ফোনটি কিনতে যাচ্ছেন সেই ফোনে রেডিয়েশনের মাত্রা কত।

ধরুন কানে রেখে কথা বললে Xiaomi Mi A1 রেডিয়েশন ছাড়ায় ১.৭৫ ওয়াটস পার কিলোগ্রাম। অন্যদিকে, Huawei Mate 9 এর রেডিয়েশন ১.৬৪ ওয়াটস পার কিলোগ্রাম।

আবার Huawei Mate P9 Plus এর রেডিয়েশন ১.৪৮ ওয়াটস পার কিলোগ্রাম। OnePlus 5 এর রেডিয়েশনের পরিমাণ ১.৮৬ ওয়াটস পার কিলোগ্রাম। iPhone 7 এর রেডিয়েশনের পরিমাণ আবার ১.৩৮ ওয়াটস পার কিলোগ্রাম।

তাই ফোন কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই ফোনের রেডিয়েশনের মাত্রা জেনে নিতে হবে। এতে আপনি রক্ষা পাবেন মারাত্মক সব রোগ থেকে।

মন্তব্য লিখুন :