আট শব্দের টুইটে আলোচনায় সানিয়া

ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতা বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক অঙ্গন ছেড়ে খেলায়ও প্রকাশ পায়। তাই এই দুয়ের ম্যাচ মানেই আলোচনার ঝড়। সেই ঝড় কি আর সহজে থামে! ঝড়ের কবলে অনেককেই পড়তে হয় দুদেশের সমর্থকদের তোপের মুখে। তেমনি একজন সানিয়া মির্জা। ভারতের এই টেনিস তারকা পাকিস্তান দলের ক্রিকেটার শোয়েব মালিককে বিয়ে করার পর বিভিন্ন সময় দুদেশের মানুষেরই সমালোচনার খোরাক হয়েছেন।

স্বামীর দেশ নাকি নিজের দেশ? এমন প্রশ্নে বিভিন্ন সময় হোঁচট খেয়েছেন এই তারকা। চলমান বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তান ম্যাচের আগে টুইট করে সমর্থদের ট্রলের শিকার হয়েছেন। সবশেষ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে টুইটারে ৮ শব্দের ছোট একটা টুইট করেন। তাতেই পাকিস্তানের সমর্থকদের সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে যান সানিয়া। ইংরেজিতে ৮ শব্দে লেখা সানিয়ার টুইটবার্তার অর্থটা হলো- খেলা কতটা অবিশ্বাস্যভাবেই না সবকিছু বদলে দেয়।

টুইটে পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের সমালোচকদের হালকা কটাক্ষও মেশানো ছিল। তবে এই টুইটের পরই সানিয়াকে উল্টো কটাক্ষ হজম করতে হয়েছে পাকিস্তানি সমর্থকদের পক্ষ থেকে। সবাই তুলে আনছেন সানিয়ার স্বামী শোয়েব মালিকের বাদ পড়া এবং পরিবর্ত হিসেবে নেমে হ্যারিস সোহেলের অসাধারণ খেলা। কারণ শোয়েব মালিক প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ার পরেই যে পাকিস্তান স্বমহিমায় ফিরেছে।

সানিয়ার টুইটের নিচেই তাই ভেসে এসেছে একের পর এক পাল্টা-টুইট! আসাদ নামে একজন লিখেন, হ্যারিস সোহেলের বিশ্বকাপের দুই ইনিংস শোয়েব মালিকের পুরো ২০ বছরের কেরিয়ারের থেকেও ভালো। আর সামির মিশরা নামে ভারতীয় এক সমর্থক লিখেন, সমস্ত কৃতিত্ব শোয়েব মালিকের, প্রথমত একাদশে না থাকার জন্য। বিশ্বকাপের সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করায় সানিয়াকে আগেই ভারতীয়দের পক্ষ থেকে ট্রোল করা হয়েছিল।

তবে যত যাই হোক পাকিস্তানের বিশ্বকাপের শুরুর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সরফরাজের দল প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার বিষয়ে আশা জাগিয়েছে।

এমন পরিস্থিতে স্বামীর দেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং পাকিস্তানের হারে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য  করেই ওই টুইটটি করেছিলেন সানিয়া। সেই টুইটের স্বাদ যে এতটা তেতো হবে, বুঝতেই পারেননি তিনি। বরাবরের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার তিনি। চলতি বিশ্বকাপে বেশ রোলার-কোস্টার রাইড চলছে পাকিস্তানের। সরফরাজদের পারফরম্যান্সে কখনও রোদ তো কখনও বৃষ্টি! তবে ভারতের কাছে হারার পরে পাকিস্তান ক্রিকেটার নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। সরফরাজ তো মানসিকভাবে বিধ্বস্তই হয়ে পড়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা বাস্তবে ক্যাপ্টেন সরফরাজকে নিয়ে রীতিমতো ঝড় বইছিল ভারত ম্যাচের পরে।

তবে দুই জয়ের পর পাকিস্তানকে এখনো শেষ চারে উঠতে হলে বাকি দুই ম্যাচ জিততে হবে। শুধু তাই নয়, শেষ চারে যাওয়ার দৌড়ে রয়েছে যে আরো দুই দল বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড, তাদের খেলার ফলাফলেও নজর রাখতে হবে।

মন্তব্য লিখুন :