শেষ বলের আক্ষেপ রংপুরের

ঢাকা ডায়নামাইটসের দেয়া বিশাল রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দুই ব্যাটসম্যান রাইলি রসো ও মোহাম্মদ মিথুনের দারুণ ব্যাটিংয়ের পরও শেষ বলের আক্ষেপে ২ রানে হেরেছে রংপুর রাইডার্স।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দিনের প্রথম ম্যাচে পোলার্ডের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ১৮৩ রান করে ঢাকা। জবাবে খেলতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলতে সক্ষম হয় রংপুর।

ব্যাট করতে নেমে মাশরাফির প্রথম ওভার দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছিলেন সুনিল নারিন। প্রথম ওভারে দুই ওপেনার মিলে ৯ রান নিলেও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সোহাগ গাজীর প্রথম বলে বোল্ড হন জাজাই। মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো এই বিধ্বংসী ওপেনার।  

জাজাই ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ঢাকা শিবিরে আঘাত হানেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সুনিল নারিনকে ব্যক্তিগত ৮ রানে বিদায় করেন এই পেসার। পয়েন্ট অঞ্চলরে বোপারার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।  

দুই উইকেট হারালেও রানের চাকা সচল রাখার লক্ষ্য ছিল ঢাকার। সেই উদ্দেশ্যেই হাত খুলে খেলছিলেন রনি তালুকদার। সোহাগ গাজীর দ্বিতীয় ওভারের ১৩ রান নিলেও নিজেকে আটকে রা খতে পারেন নি রনি। ওভারের শেষ বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে বেনি হাওয়েলের অসাধারণ ক্যাচে বিদায় নেন রনি।  
সাকিব এবং মিজানুর রহমান মিলে হাল ধরার চেষ্টায় ছিলেন ঢাকার পক্ষে। কিন্তু দলীয় ৬৪ রানে বোলিংয়ে আসা ইংলিশ অলরাউন্ডার বেনি হাওয়েলের ছোড়া স্লো ইয়র্কারে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন মিজানুর। ১২ বলে ১৫ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে।  

৪ উইকেট হারিয়ে বসা ঢাকাকে চাপমুক্ত করেন সাকিব আল হাসান এবং কাইরন পোলার্ড। বিশেষ করে কাইরন পোলার্ড রংপুরের বোলারদের বিপক্ষে চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন। ইনিংসের ১৩তম ওভারে নাজমুল ইসলাম অপু বলে ২৩ রান হাঁকান পোলার্ড।

এরপর ২১ বলে তুলে নেন ফিফটি। তবে ফিফটি হাঁকিয়ে ব্যক্তিগত ৬২ রানে হাওয়েলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন পোলার্ড। ৭৮ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। খানিক পর সাকিব আল হাসানকে ৩৬ রানে বিদায় করেন ফরহাদ রেজা।

শেষের দিকে আরেক ক্যারবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলও তান্ডব চালান রংপুরের বোলারদের উপর। ৩ ছক্কায় ১৩ বলে ২৩ নিয়ে রাসেল ফিরলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৮৩ রানে থামে ঢাকার ইনিংস।

জবাবে শুরুতেই ক্রিস গেইলে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে রংপুর। এরপর চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফেরেন ১০ বলে ১০ রান করা মেহেদি মারুফ। ২৫ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারানো রংপুর ঘুরে দাঁড়ায় রাইলি রসো ও মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটে।

তৃতীয় উইকেটে এই দু’জন ৭২ বলে যোগ করেন ১২১ রান। ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে রসো আউট হওয়ার আগে করেন ৪৪ বলে ৮৩ রান। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান তিনি এই ইনিংস। রসো আউট হওয়ার সময় রংপুরের দরকার ছিল ২৭ বলে ৩৮ রান। তখন ৪৫ রান নিয়ে মাঠে ছিলেন মিথুন। তবে নতুন ব্যাট করতে আসা রবি বোপারাকে ৩ রানে ফিরিয়ে বাজি উল্টে দেন সাকিব।

তবে এতেও রংপুরকে বেগ পেতে হতো না যদি কি না আলিস ইসলাম অসাধারণ কিছু করে না দেখাতেন। ১৮তম ওভারে বল করতে এসে এই স্পিনার একে একে তিনজনকে ফিরিয়ে তুলে নেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক।

তিনি শুরুটা করেন মিথুনকে দিয়ে। তার করা চতুর্থ বলে ছয় মারতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন মিথুন। পরের বলেই আলিস বোল্ড করেন মাশরাফিকে। শেষ বলে ফরহাদ রেজাকে সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে তুলে নেন হ্যাটট্রিক।

এতেই ম্যাচ চলে যায় ঢাকার দিকে। পরের ওভারে নারাইন আঘাত হানলে শেষ ওভারে জেতার জন্য রংপুরের দরকার হয় ১৪ রান। প্রথম দুই বলে চার মেরে জয়ের পথেই যাচ্ছিল রংপুর। টানা দুই চারের পর তৃতীয় বলে শফিউল ইসলাম আরও এক রান নিলে শেষ ৩ বলে দরকার হয় ৫ রান।

চতুর্থ বলে আলিসকে এগিয়ে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হন অপু। পরের বলে তিনি ১ রান নিলে শেষ বলে রংপুরের প্রয়োজন হয় ৪ রানের। তবে সেই বলে মাত্র ২ রান নিতে সক্ষম হন শফিউল। আর এতেই ২ রানের হার নিশ্চিত হয় রংপুরের।

মন্তব্য লিখুন :