নিষিদ্ধ হার্দিকের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনিশ্চিত!

নারী বিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে ইতোমধ্যেই ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া ও ব্যাটসম্যান লোকেশ রাহুল। এরপরই হার্দিকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে স্পন্সর জিলেট। এখন শোনা যাচ্ছে এই অলরাউন্ডার বাদ পড়তে পারেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দল থেকেও। তাছাড়া, আইপিএলেও তার খেলা অনিশ্চিত। বোঝাই যাচ্ছে এক মন্তব্যের কারণে তার ক্যারিয়ার নিয়েই টানাটানি শুরু হয়ে গেছে।

গত বছরই ব্লেড প্রস্তুতকারক সংস্থা জিলেটের ব্র্যান্ড অ্যামবাসাডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন হার্দিক। এক বছরের মাথায় ভারতীয় অলরাউন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষণা করল তারা।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হার্দিক পান্ডিয়ার সাম্প্রতিক কথাবার্তা আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে মিলছে না। তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্য়ন্ত হার্দিকের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করছি।

এদিকে, শৃঙ্খলাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া থেকে লোকেশ রাহুলের সঙ্গে হার্দিককেও দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গড়া প্রশাসকদের কমিটি বা সিওএ দু’জনকেই নতুন করে শোকজ করেছে। যতদিন না তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততদিন বিসিসিআই, আইসিসি বা কোনো রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন না দু’জন।

বিসিসিআই কর্মকর্তা ডায়না এডুলজি বলেছেন, কেউই খেলার চেয়ে বড় নয়। কেউই সংস্থার চেয়ে বড় নয়। কোড অব কন্ডাক্ট বলে একটা ব্যাপার আছে। চুক্তিতেও সব লেখা আছে। সেই নিয়মকানুন, আচরণবিধি মেনে তো চলতে হবে।

তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ডায়না বলেন, তদন্ত শেষ না হতে কিছুই বলা যাচ্ছে না। বিশ্বকাপের দলে নাও রাখা হতে পারে দু’জনকে।

‘কফি উইথ করণ’ নামের জনপ্রিয় টিভি শোতে গিয়ে হার্দিক বলেন, কোনো ক্লাবে গেলে আমি মেয়েদের নামও দেখি না। একটি মেয়েকে যে মেসেজ পাঠাই, সেই মেসেজই অন্য মেয়েদের পাঠিয়ে দিই।” নিজের যৌনজীবন নিয়ে বলতে গিয়ে হার্দিক জানান, তার বাবা-মা তার কাছে বন্ধুর মতো। নিজের প্রথম শারীরিক সম্পর্কের কথাও মাকে জানিয়েছিলেন তিনি। প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের পর টিম ইন্ডিয়ার তারকা অলরাউন্ডার নাকি তার মাকে এসে বলেছিলেন, “মা আজ ম্যায় কার কে আয়া…।” (আজ আমি শারীরিকভাবে মিলিত হয়েছি।)

হার্দিকের এই মন্তব্য ভালোভাবে নেননি নেটিজেনরা। বিশেষ করে মহিলারা, তার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান হার্দিক।

এই শো-তে গিয়েই শচীন এবং বিরাটের মধ্যে তুলনায় বিরাটকে এগিয়ে রেখেছিলেন হার্দিক এবং লোকেশ রাহুল। যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। এরপরই লোকেশ রাহুল এবং হার্দিককে শোকজ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন :