বাংলাদেশের টানা তিন জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অপরাজেয় থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুক্রবার ফাইনাল খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

বুধবার ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট মাঠে পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে রেকর্ড জুটিতে আইরিশরা তুলেছিল ২৯২ রান। বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটি জিতেছে অনেকটাই হেসেখেলে, ৪২ বল বাকি রেখেই। আইরিশদের ২৯২ রান তামিম (৫৭), লিটন (৭৬) ও সাকিব (৫০) মিলে অনায়েসে টপকে গেছে বাংলাদেশ।

তবে এই জয়ের মাঝে অস্বস্তিও মিশে থাকলো। দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন সাইড স্ট্রেইনের সমস্যায়।

আবু জায়েদ রাহীর ৫ উইকেট প্রাপ্তির পর ব্যাটিয়েও চমৎকার শুরু পায় টাইগাররা। ‘নতুন’ ওপেনিং সঙ্গী লিটন দাসকে নিয়ে তামিম ইকবাল গড়েন ১১৭ রানের জুটি। দুজনই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। তামিম করে যান ৫৭ রান, আর সুযোগ পেয়ে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে নিজেকে প্রমাণ করেন লিটন।

এরপর সাকিব (৫০*) ও মুশফিকুর রহিমের (৩৫) ব্যাটে জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ।  যেটা নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ (৩৫*) ও সাব্বির রহমান (৭*)। মোসাদ্দেক হোসেন করেছেন ১৪ রান।

এরআগে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ৮ উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ড তুলেছে ২৯২ রান। টাইগারদের জিততে চাই এখন ২৯৩।

তবে দিনের শুরুটা ভালোই হয়েছিল টাইগারদের। দলে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন রুবেল হোসেন। এ তারকা ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড ওপেনার জেমস ম্যাককলামকে ফিরিয়ে দেন মাত্র ৫ রানে।

১১তম ওভারে দ্বিতীয় আঘাতটি হানেন রাহী। তার সুইংয়ে সম্পূর্ণ পরাস্ত হয়ে মুশফিকুর রহিমের কাছে ক্যাচ তুলে দেন বলবিরনি। এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পল স্টার্লিং ও উইলিয়াম পর্টারফিল্ড।

যদিও তাদের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকার কথা ছিল না। তবে ২০, ২১ ও ২২ ওভারে পরপর তিনটি ক্যাচ মিস হয় তাদের। প্রথমে সাব্বির রহমান ও পরে সাইফুদ্দিন ক্যাচ ছেড়ে দেন পর্টারফিল্ডের। এরপর স্টার্লিংয়ের ক্যাচ ছাড়েন সাকিব।

নতুন জীবন পেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন এই দুই ব্যাটসম্যান। মারমুখি হয়ে দরকে এগিয়ে নিতে থাকেন বড় সংগ্রহের দিকে। ৩৫তম ওভারে এসে ৯৪ রানের সময় পর্টারফিল্ডকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন রাহী। তবে ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ডের স্কোর তখন ২৩৩।

আর এই জুটির সংগ্রহ ১৭৩। এরপর একে একে রাহী ফেরান আরও তিনজনকে। তবে এরই মাঝে টাইগারদের তুলোধুনা করতে থাকে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা। যার মধ্যে সাকিবের করা ৪৬তম ওভারে আসে ২৩ রান। শেষ অবধি তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেটে ২৯২ রানে। শেষ ওভারে ২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সাইফুদ্দিন।

পল স্টার্লিং ১৪২ বলে ৮ চার আর ৪ ছয়ে করেন ১৩০ রান। পর্টারফিল্ড ১০৬ বলে করেন ৯৪ রান। এ সময় তিনি ৭টি চার আর ২টি ছয়ের মার মারেন। বাংলাদেশের হয়ে ৯ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহী।

স্কোর:

আয়ারল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৯২/৮ (স্টার্লিং ১৩০, ম্যাককলাম ৫, বালবার্নি ২০, পোর্টারফিল্ড ৯৪, ও’ব্রায়েন ৩, অ্যাডায়ার ১১, উইলসন ১২, ডকরেল ৪, ম্যাককার্থি ১; আবু জায়েদ ৯-০-৫৮-৫, রুবেল ৭-২-৪১-১, সাইফ ৯-০-৪৩-২, মোসাদ্দেক ৮-০-৩২-০, সাকিব ৯-০-৬৫-০, মাশরাফি ৮-০-৪৭-০)।

বাংলাদেশ: ৪৩ ওভারে ২৯৪/৪ (তামিম ৫৭, লিটন ৭৬, সাকিব ৫০ (আহত অবসর), মুশফিক ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৫*, মোসাদ্দেক ১৪, সাব্বির ৭*; অ্যাডায়ার ১০-০-৫২-১, ম্যাককার্থি ১০-০-৬১-১, লিটল ৮-০-৬৭-০, র‍্যানকিন ৭-০-৪৮-২, ডকরেল ৮-০-৫৭-০)।

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: আবু জায়েদ

মন্তব্য লিখুন :