সৌম্য-মোসাদ্দেক ঝড়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শিরোপা

ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ার জন্য বাংলাদেশকে পাহাড় টপকাতে হয়েছে। ২৪ ওভারে ২১০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৭ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড় তুলে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার- তামিম ইকবাল। দুইবার কাছাকাছি সময়ে জোড়া উইকেট হারিয়ে সমীকরণ হয়ে গিয়েছিল কঠিন। কিন্তু বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সেই সমীকরণ মেলালেন মোসাদ্দেক হোসেন।

ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের এক ওভার থেকে তিন ছক্কা ও এক চারে ২৫ রান তুলে সমীকরণ একদম সহজ করে ফেলেন মোসাদ্দেক। ২৩ বলে তুলে নেন নিজের দ্বিতীয় ফিফটি।

সৌম্য ঝড় তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। অপরপ্রান্তে শুরুতে ধীর-স্থির হয়ে খেলছিলেন তামিম। শুরুতে সৌম্যর সঙ্গী হয়ে তৃতীয় ওভারে ক্যাচের সুযোগ দিয়েও শুরুতে বেঁচে গিয়েছিলেন। হাতছাড়া হয় তা ক্যারিবীয়দের। তবে ষষ্ঠ ওভারে কোনও সুযোগ দেননি হোল্ডার। গ্যাব্রিয়েলের বলে ১৮ রানে ব্যাট করতে থাকা তামিমকে তালুবন্দী করেন তিনি। নতুন নামা সাব্বির রহমানও ছিলেন ব্যর্থ। সৌম্য ৪১ বলে ৬৬ রান করে ফিরলেও গড়ে দিয়ে যান জয়ের ভিত। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকের ব্যাটে চলছিলো রানের চাকা। সেই মুশফিককে বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছেন রেইফার। মুশফিক বিদায় নেন ২২ বলে ৩৬ রান করে। সেই বিপদ আরও বেড়ে যায় মোহাম্মদ মিঠুন দারুণ কিছু শট খেলে ১৭ রানে ফিরলে। তাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফাবিয়ান অ্যালেন। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌম্যর গড়ে দেওয়া মঞ্চে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। মোসাদ্দেকই মূলত জয়টাকে নিয়ে আসেন কাছে। ২৪ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাহমুদউল্লাহ ছিলেন শান্ত ভঙ্গিতে। ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। এ দুজনের দৃঢ়তায় ২২.৫ ওভারে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। 

বৃষ্টিতে লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকার কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে নেমে এসেছিলো ২৪ ওভারে। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ২৪ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করে। কিন্তু খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।

বৃষ্টির আগে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। জবাবে দুই ওপেনার শাই হোপ ও সুনিল আম্ব্রিসের দারুণ ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় তারা। বিনা উইকেটে বৃষ্টির বাধার আগে স্কোর বোর্ডে উঠে আসে ২০.১ ওভারে ১৩১ রান। ততক্ষণে ক্রিজে ছিলেন শাই হোপ ৬৮ রানে আর আম্ব্রিস ৫৯ রানে। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় এক পর্যায়ে ম্যাচ বাতিলের আভাসই পাওয়া যাচ্ছিলো। তেমনটি হলে হলে লিগ পর্বে ভালো ফলের কারণে চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশই।

নতুন করে ব্যাটিংয়ে নামার পর ক্যারিবীয়রা আগের দারুণ সূচনা পুঁজি করতে চেয়েছে শেষ পর্যন্ত। ২৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে করতে পেরেছে ১৫২ রান। তাতে ডি/এল মেথডে হয়ে দাঁড়ায় ২১০ রানের লক্ষ্যে।

হোপ ও সুনিল আমব্রিস ঝড়ের বড় অংশ গেছে মুস্তাফিজুর রহমানের উপর দিয়ে। বাঁহাতি এই পেসার ৫ ওভারে ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রানে নেন একমাত্র উইকেটটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৪ ওভারে ১৫২/১ (হোপ ৭৪, আমব্রিস ৬৯*, ব্রাভো ৩*; মাশরাফি ০/২৮, সাইফ ০/২৯, মুস্তাফিজ ০/৫০, মোসাদ্দেক ০/৯, মিরাজ ১/২২, সাব্বির ০/১২)

বাংলাদেশ: (লক্ষ্য ২৪ ওভারে ২১০) ২২.৫ ওভারে ২১৩/৫ (তামিম ১৮, সৌম্য ৬৬, সাব্বির ০, মুশফিক ৩৬, মিঠুন ১৭, মাহমুদউল্লাহ ১৯*, মোসাদ্দেক ৫২*; নার্স ০/৩৫, হোল্ডার ০/৩১, রোচ ০/৫৭, গ্যাব্রিয়েল ২/৩০, রিফার ২/২৩, অ্যালেন ১/৩৭)

ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

মন্তব্য লিখুন :