নারী দিয়ে দাড়ি কামালেন শচীন, ছবি ভাইরাল

ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের সেলুনে শেভ করানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান প্রত্যন্ত এক গ্রামে এক নরসুন্দরকে দিয়ে দাড়ি কাটাচ্ছেন শচীন।

প্রথম দেখায় ছবিটি এডিট করা বলে মনে করতে পারেন কেউ কেউ। তবে শচীন নিজের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টে শুক্রবার ছবিটি পোস্ট করেন।

ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এটা আমার জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা। এই প্রথম আমি আমার রেকর্ড ভাঙলাম। এর আগে কখনও অন্য কোথাও শেভ হইনি। এ তরুণীদের সেলুনে এসে এবং তাদের জিলেট ইন্ডিয়া বৃত্তি প্রদান করে আমি সম্মানিতবোধ করছি।’

শচীনের এই পোস্ট ইতিমধ্যে ভাইরাল। মন্তব্যের ঘরে শুধু প্রশংসাসূচক বাক্য ও অভিনন্দন জমা পড়ছে। পোস্টটি নিজেদের টাইমলাইনে শেয়ার করছেন শচীন ভক্তরা।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের বনওয়ারি টোলা নামের গ্রামে রয়েছে এই সেলুনটি। যেখানে নরসুন্দরের কাজ করছেন দুই তরুণী।

শচীন আর সব জায়গা ছেড়ে কেন সেভ করতে উত্তরপ্রদেশের সেই প্রত্যন্ত গ্রামে গেলেন, তার পেছনে রয়েছে জীবনযুদ্ধে লড়াই করা দুই তরুণীর সাহসী পথচলার গল্প।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারের হাল ধরতে হয় এই দুই তরুণীকে। পরিবারে আর কোনো পুরুষ না থাকায় নিজেরাই পুরুষ সেজে বাবার সেলুনে কাজ শুরু করেন।

প্রত্যন্ত গ্রামে সেলুনে নারী নরসুন্দর সমাজব্যবস্থায় বেমানান বলেই নেহা ও তার বোন নিজেদের পরিচয় গোপন করে পুরুষ সেজে কাজ শুরু করেন।

সেলুনে কাজ করে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে চলতে থাকে নেহার বাবার চিকিৎসা ও সংসার। পাশাপাশি নিজেদের পড়াশোনাও চালিয়ে নিতে থাকেন তারা।

একসময় এ দুই বোনের পরিচয় প্রকাশ পেলে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাদের নিয়ে খবর প্রকাশ হয়। তাদের নিয়ে তৈরি হয় একটি বিজ্ঞাপন।

সংবাদমাধ্যমে নেহা এবং তার বোনের এমন সাহসী পদক্ষেপ দেখে অভিভূত হন শচীন। সম্প্রতি তিনি নিজে নেহাদের সেলুনে যান ও জিলেটের পক্ষ থেকে বৃত্তি প্রদান করেন।

মন্তব্য লিখুন :