মাশরাফির পাশে এসে দাঁড়ালেন তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণভ্রমরা মাশরাফি বিন মুর্তজা। দেশের হয়ে বহু জয়ে বুক চিতিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার নেতৃত্বগুণ প্রশংসিত হচ্ছে সব মহলে। এমনকি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অনেকেই মাশরাফিকে বিশ্বকাপে ‘সেরা অধিনায়ক’ তকমা দিয়েছেন।

নড়াইল এক্সপ্রেস শুধু নেতৃত্বগুণ দিয়েই দলে টিকে আছেন বিষয়টি সে রকম নয়। তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অসাধারণ। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলতে মাশরাফি কার্যকর পেসার। ম্যাচে বোলাররা যখন মার খেতে থাকেন, তখন বল হাতে তুলে নেন মাশরাফি। দলের দুঃসময়ে এভাবে এগিয়ে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার বহু নজির রয়েছে ওয়ানডে অধিনায়কের।

সেই মাশরাফির সম্প্রতি পারফরম্যান্স নিয়েই সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। ২০১৪ দলে ভীষণ দুঃসময়ে অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন জাতীয় দলকে। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল আর এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলা মাশরাফির নেতৃত্বে। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় তো আছেই।

সবশেষ বিশ্বকাপেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাশরাফির নেতৃত্বেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় বাংলাদেশ। শুধু অধিনায়কত্ব নয়, বল হাতেও বাংলাদেশের অনেক জয়ের নায়ক ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। অথচ সেই নায়কই সমালোচনায় বিদ্ধ।

তবে এই সময়ে মাশরাফির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তার সতীর্থরা। শুক্রবার বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ একহাত নিয়েছেন মাশরাফির সমালোচকদের। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালও।

বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে তামিমেরও সমালোচনাও হচ্ছে। বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান অবশ্য নিজেকে নিয়ে নয়, প্রিয় অধিনায়ককে নিয়ে বেশি চিন্তিত।

‘আমার কথা বাদ দিন, মাশরাফি ভাইয়ের কথা বলি। যারা মাশরাফি ভাইকে নিয়ে লিখছেন, তাদের একটু চিন্তা করা উচিত যে তারা কার সম্পর্কে লিখছেন। গত ১৫-১৬ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার কতটা অবদান। অনেকেই বলছেন মাশরাফি ভাই নাকি আনফিট। ১০-১৫ বছর আগে এ কথা বলা উচিত ছিল তাদের। কারণ এ অবস্থা নিয়েই ১০ বছর ধরে খেলছেন তিনি।’

তামিম মনে করেন, বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ দেখে মাশরাফিকে মূল্যায়ন করার কোনো মানেই হয় না। ‘এই বিশ্বকাপে হয়তো তার পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত হচ্ছে না, আর অনেকেই এটিকে বড় করে দেখছেন। কিন্তু এমন একটি মানুষকে নিয়ে কথা হচ্ছে, যার হাত ধরে আমরা এ পর্যন্ত এসেছি। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। ’

তিনি বলেন, ‘মাশরাফি ভাই বাংলাদেশের ক্রিকেট আর ক্রিকেটারদের জন্য যা করেছেন, তাতে তাকে নিয়ে বিরূপ আলোচনা করা খুবই অন্যায়। তিনি যা পেয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি তার প্রাপ্য।’

তামিম মাশরাফির সমালোচক ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজিত আগরকারকেও একহাত নিয়েছেন।

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর অজিত আগারকার বলেছিলেন- মাশরাফিকে এখন একাদশের বাইরে রাখা উচিত। তার এ মন্তব্যে দেশের নিযুত ক্রিকেটভক্তের মতো ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন তামিমও। বলেছেন, ‘বিদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা মাশরাফি ভাইকে নিয়ে মন্তব্য করছেন। আমার প্রশ্ন- তারা জীবনে কী করেছেন যে একজন রানিং খেলোয়াড় সম্পর্কে এভাবে বলছেন। তাদের বোঝা উচিত তারা কার সম্পর্কে কথা বলছেন। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে সুসময়-দুঃসময় আসবেই। আমার কাছে অবশ্য বিদেশের কে কী বলল তা একটুও গুরুত্বপূর্ণ নয়। ’

মন্তব্য লিখুন :