ভুল স্বীকার করলেন ধর্মসেনা

বিশ্বকাপের ফাইনালে কুমার ধর্মসেনার দেওয়া ভুল সিদ্ধান্তেই শিরোপা পেয়েছে ইংল্যান্ড, এমনটা মনে করেন অনেকেই। ফাইনাল শেষ হয়ে গেলেও ওভার থ্রো থেকে ইংলিশদের বাউন্ডারি পাওয়া নিয়ে বিতর্কটা থামেনি এখনো। এমনকি ওভার থ্রোর নিয়ম পরিবর্তনের কথাও উঠেছে। এমসিসিও নতুন করে ভাবছে আইনটি নিয়ে। এর মধ্যে ফাইনালের বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং শ্রীলঙ্কার আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।

নিজ দেশের প্রথমসারির পত্রিকা দ্য আইল্যান্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধর্মসেনা বলেছেন, তিনি ভুল করেছিলেন। এমনকি ওভার থ্রোর আইন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী।

২০১৫ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েন ধর্মসেনা। তখন থেকেই ক্রিকেটের শীর্ষ আম্পায়ারদের একজন তিনি। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার জন্যও তাই তাকে দায়িত্ব দিতে মোটেও ভাবনায় পড়তে হয়নি আইসিসিকে।

মূল ম্যাচে শেষ ওভারে যখন ৩ বলে ৯ রান প্রয়োজন ছিল ইংলিশদের, বেন স্টোকস ব্যাটিংয়ে থাকার পরও ম্যাচটা কিউইদের দিকেই ঝুলে ছিল। এমন মুহূর্তে ট্রেন্ট বোল্টের বল মিড উইকেটে ঠেলে দিয়েই দৌড়ান স্টোকস। নিজে স্ট্রাইকে থাকতে দুই রানে নিতে প্রাণান্তর চেষ্টা করলেন। তাই ডাইভ দিয়েছিলেন। এ সময় মিড উইকেট থেকে গাপটিলের করা থ্রো ডাইভ দেওয়া স্টোকসের ব্যাটে লেগে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারি পেরিয়ে যায়।

আম্পায়ার ধর্মসেনা ৬ (২+৪) রানের সিদ্ধান্ত দেন। এ বিষয় নিয়ে সেদিন কোনো কথা হয়নি। কিন্তু ফাইনালের পরের দিন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার সাইমন টফেল বলেন, ইংল্যান্ড আসলে ৫ রান পেত। কারণ গাপটিল যখন থ্রো করেন, তখন দুই ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও আদিল রশিদ একে অপরকে ক্রস করেননি।

সিদ্ধান্ত দেওয়া নিয়ে আইসল্যান্ডকে ধর্মসেনা বলেন, আমি আমার সহকর্মী মারাইস ইরাসমাসের সঙ্গে পরামর্শ করেই কল দিয়েছি। এটা নো বল এবং ওয়াইড বলের মতো কল, তাই আমি থার্ড আম্পায়ারের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারিনি। আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম ব্যাটসম্যানরা একে অপরকে ক্রস করেছেন। দেখে মনে হলো সে পপিং ক্রিজে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল।

কিন্তু ধর্মসেনা এখন নিজেই অনুতপ্ত, ‘আমি স্বীকার করছি যে আমি ভুল ছিলাম। আমি এটাও স্বীকার করছি এই নিয়মের পরিবর্তন দরকার।

মন্তব্য লিখুন :