এ লজ্জা রাখবে কোথায় বাংলাদেশ?

এবারের শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে যেন ১০বছর আগে ফিরে গেছে বাংলাদেশ। একসময় শ্রীলঙ্কার সাথে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়তে ব্যর্থ হতো বাংলাদেশ। চামিন্দা ভাস-মুরালিদের দাপটে দাঁড়াতে পারতো না কোনো ব্যাটসম্যানই। অবস্থা এমন ছিল যে সবার কামনা থাকতো সম্মানের পরাজয়।

এবারের সিরিজ দিয়ে সেই সময়ে ফিরে গেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দল তিন ম্যাচের একটিতেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা তো গড়তেই পারেনি উল্টো হেরেছে গো হারা। যদিও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। তবে ব্যাট হোক, বল হোক বা ফিল্ডিং, তিন সেক্টরেই চরম ব্যর্থ টাইগাররা। ফলাফল হোয়াইটওয়াশ।

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হেরেছিল ৯১ রানে, পরের ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে। আর আজ হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে টাইগাররা হেরেছে ১২২ রানে। তিন ম্যাচেই এমন বাজে পরাজয় বাংলাদেশ গত ৫ বছরে কখনোই বরণ করেনি।

প্রেমাদাসায় আজ টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়েছিল বাংলাদেশ। তুলে নেয় একটি উইকেটও। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আঘাত হানেন পেসার শফিউল ইসলাম। আভিশকা ফার্নান্ডোকে ৬ রানেই এলডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

পরের পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ দেয় ২৩ রান। ১০ ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৬ রান। এরপরই খোলস ছেড়ে বের হয় অভিষিকা আর পেরেরা। এই দুজন শুরু করেন হাত খুলে খেলতে। ফলাফলও পান তারা। পরের ১০ ওভারে তাদের জুটি থেকে আসে ৬০ রান।

২১তম ওভারে এসে এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৪৬ রানে ব্যাট করা করুণারত্নেকে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান সাজঘরে। পরের ওভারেই দলকে আরেকটি ব্রেক থ্রু এনে দেন রুবেল হোসেন। মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে তিনি ফেরান কুশাল পেরেরাকে। তবে তার আগে ৫২ বল খেলে মূল্যবান ৪৩ রান করে যান তিনি।

এরপর বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ডোবান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস আর কুশাল মেন্ডিস। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন গড়েন ১০১ রানের জুটি। এই রান আসে ১২১ বল থেকে। ১৯৯ রানের মাথায় কুশাল ৫৪ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর আবার সেই হতাশা।

ডেথ ওভারে ৫১ বলে বাংলাদেশ দেয় ৯৪ রান। এর মধ্যে দাসুন শানাকা ১৪ বলে করেন ৩০ রান। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৯০ বলে করেন ৮৭ রান। শেষ ওভারে এসে সৌম্য সরকার দুইটি উইকেট তুলে নিলেও শফিউল-রুবেলদের ব্যর্থতায় ২৯৪ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা।

শফিউল ইসলাম ১০ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। অথচ এই বোলার প্রথম ৫ ওভারে দেন মাত্র ১২ রান। সৌম্য সরকার ৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে তিনটিউইকেট নিয়েছেন। এছাড়া রুবেল হোসেন ৯ ওভারে ৫৫ রান দেন। তাইজুল ১০ ওভার বল করে ৩৬ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বাজে পারফর্মের ধারা অব্যাহত রাখেন তামিম ইকবাল। প্রথম দুই ম্যাচের পর তৃতীয় ম্যাচেও তিনি ব্যর্থ। আজ করেছেন মাত্র দুই রান। আউট হয়েছেন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই।

দীর্ঘদিন পর দলে সুযোগ পাওয়া এনামুল হকও বিদায় নেন দ্রুত। পরপর দুইটি চার মারার পরও তৃতীয় বলটি ফের উড়িয়ে খেলেন তিনি। ফলাফল ৩০ গজের মধ্যে ক্যাচ। এর আগে ২৪ বলে করেন ১৪ রান।

এই দুজনের বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নিয়েছেন মুশফিকুর রহিমও। প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো মুশফিক আজ করেন ১০ রান। এতে ১২ ওভারেই ৪৬ রানে ৩ উইকেট চলে যায় বাংলাদেশের। এর কিছুক্ষণ পর তিন ব্যাটসম্যানের সাথে যোগ দেন মিথুনও। তিনি শানাকার শিকার হওয়ার আগে করেন ৪ রান।

যদিও অন্যপ্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেলেন সৌম্য সরকার। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেনি কেউ। মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ ৯, সাব্বির রহমান ৭ আর মেহেদি মিরাজ ৮ রান করে ফিরলে ১১৭ রানেই ৭ উইকেট চলে যায় বাংলাদেশের।
 
এরপর দলকে কিছুটা হলেও লজ্জার হাত থেকে বাঁচান সৌম্য ও তাইজুল। সৌম্য সরকারের ৮৬ বলে ৬৯ রানের ইনিংস আর তাইজুল ইসলামের ৩৯ রানের ইনিংসের সুবাদে ১৭২ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

কাসুন রাজিথা দুইটি, দাসুন শানাকা তিনটি আর লাহিরু কুমারা নেন তিনটি উইকেট।

মন্তব্য লিখুন :