অবিশ্বাস্য এক টেস্টের মহানায়ক স্টোকস

লিডস টেস্টে কী ছিল না অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৯ রানে অলআউটের পর স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ৬৭ রানে অলআউট হওয়া, জস হ্যাজলউডের বোলিং তাণ্ডব, বিশাল রানে পিছিয়ে পড়েও জো রুটের দুর্দান্ত লড়াই। তবে এত সবকিছুকে তুচ্ছ করে দিয়েছেন বেন স্টোকস। তার অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করে অ্যাশেজে সমতায় ফিরেছে ইংল্যান্ড।

৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টটি জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের টেস্টটি হয় ড্র। এরপর তৃতীয় টেস্টে ১ উইকেটে জয় পেল ইংলিশরা। মানে সিরিজ এখন ১-১ এ সমাতায় আছে।

লিডস টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে অজিরা। প্রথম ইনিংসে তারা করে ১৭৯ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে নেমে মাত্র ৬৭ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ২৪৬ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। এতে ইংলিশদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫৯ রানের।

তৃতীয় দিনে জো রুটের ৭৫ রানের সুবাদে ১৫২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শেষ করে ইংল্যান্ড। চতুর্থ দিনে মাঠে নেমেই ১৫৯ রানের মাথায় ৭৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন রুট।

এরপর জনি বেয়াস্টোকে নিয়ে জুটি গড়েন স্টোকস। বেয়ারস্টো দলীয় ২৪৫ রানের মাথায় ৩৬ রান করে ফিরলে ভাঙে জুটি। এরপর জস বাটলার আর ক্রিস ওকস ফেরেন ২ রান যোগ করে। মুহূর্তেই ২৬১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

তবে এরপর জফরা আর্চার ভালোই সঙ্গ দেন স্টোকসকে। কিন্তু তিনিও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি লিয়নের শিকার হওয়ার আগে। তখন দলীয় রান চিল ২৮৬। ওই রানেই পরে আরেক উইকেট। এতে শেষ জুটিতে প্রয়োজন পড়ে ৭৩ রানের। যেটা অসম্ভব বলেই মনে হয়।

তবে বিশ্বকাপ হিরো স্টোকস তখনো মাঠে। ইংল্যান্ড ভক্তরাও আশায় ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাবেন স্টোকস। সেটাই হলো। ৭৩ রানের মধ্যে একাই ৭০ রান করলেন স্টোকস। জেতালেন দুর্দান্ত একটি চার মেরে।

এই সময়ে মোট ৬২ বল খেলেন স্টোকস আর জ্যাক লিচ। তার মধ্যে লিচ খেলেন ১৭টি বল। রান করেন মাত্র একটি। তবে সবচেয়ে বড় কথা তিনি স্টোকসকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন।

বেন স্টোকস ২১৯ বলে ১৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। মারেন আটটি ছয় আর ১১টি চার। অথচ এই স্টোকস প্রথম ৬৩ বলে করেন মাত্র ৩ রান।

দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট নেন জস হ্যাজলউড। দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ রান করেন মারনাস লাবুসচাগনে। স্টোকস করেন ১৪২ রান। জফরা আর্চার দুই ইনিংসে নেন  ৮ উইকেট।

মন্তব্য লিখুন :