এক নবীর জন্যই ব্যাটিং অর্ডারে তালগোল!

টার্নিং উইকেট দেয়া হয়নি বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আফসোসের শেষ নেই। আফসোসটা কতো বড়, চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কথাতেই বোঝা গেছে। অধিনায়ক হয়ে কেউ যখন বলেন, চাওয়া মতো উইকেট পাননি বলে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে পারেননি, তখন বুঝতে বাকি থাকে না একটি দলের ড্রেসিংরুমে এ নিয়ে কী চলছে। যেন কেবল উইকেটই কয়েক হাজার মাইল পিছিয়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানের দলকে!

যদিও অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, ফ্ল্যাট উইকেটেই আফগানিস্তানের স্পিনারদের বিপক্ষে হাবুডুবু খাচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। রশিদ-নবিদের স্পিন ভেল্কি সামলাতে দ্বিতীয় ইনিংসে রীতিমতো ওলট-পালট হয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ। দুই একজন ব্যাটসম্যান ছাড়া সবাই নতুন নতুন জায়গা পেয়েছেন। 

প্রথম ইনিংসে যেমন তেমন, দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ যে তরিকায় ব্যাটিং লাইন আপ সাজিয়েছে, সেটা রীতিমতো অবাক করা কাণ্ড। হয়তো অদুভুতও। ক্রিকেটের এই আধুনিক যুগে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন করতেই নাকি ঘরের মাঠের দলের এই হুড়োহুড়ি! কিন্তু এভাবে পরিকল্পনার ফলটা কী! আফগানদের শাসন মেনে নেয়াটাই তো অমোঘ নিয়তি থেকে গেছে!

হার যখন চোখ রাঙাচ্ছে, সাকিব আল হাসান তখন সংবাদ সম্মেলনে এসে তখন ব্যাটিং অর্ডার এলোমেলো করার কারণ জানালেন। এক মোহাম্মদ নবীর কারণেই নাকি তাঁর দলের ব্যাটসম্যানদের এমন জায়গা বদল।

সাকিব বলছেন, নবি ভাই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে সব সময়ই ভালো করেন। প্রথম ইনিংসে এমনই হয়েছে। তাঁকে আটকানোর জন্য আমরা ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন করেছি। ৪০০ রান তাড়া করার জন্য ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সেই পরিকল্পনাতে মোসাদ্দেককে রাখা হয়। কারণ প্রথম ইনিংসে ও কিন্তু বেশ দারুণ ব্যাটিং করেছে।

যদিও যার কারণে এতো ওলট-পালট, সেই নবি বাংলাদেশের যাওয়া ছয় উইকেটের মধ্যে মাত্র একটি পেয়েছেন। এতে আফসোস নেই সাকিবের। কারণ পরিকল্পনা কাজে লেগে গেলে তখন অন্য আলোচনা হতো বলে মনে করেন তিনি, পরিকল্পনা ভুলও হতে পারে, ঠিকও হতে পারে। মোসাদ্দেক আজ ১০০ করে নটআউট থাকলে সবাই বলত, ওয়াও কী দারুণ সিদ্ধান্ত। যেহেতু পারেনি, তাই বাজে সিদ্ধান্ত।

মন্তব্য লিখুন :