দায়িত্বহীন ব্যাটিং, ডেথ ওভার জুজু, আরও একটি হার

খারাপ সময় থেকে কোনোমতেই বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জয়ের পর আবারও টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আফগানদের কাছে হেরেই বসেছে বাংলাদেশ। সাকিব-সৌম্য-লিটন-মুশফিকদের ব্যর্থতায় ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

এই হারে ব্যাটসম্যানদের মতো সমান দায়ী ডেথ ওভারের বোলাররা। তাদের কারণেই শুরুতে ৪ উইকেট হারানো আফগানিস্তান শেষ পর্যন্ত তোলে ১৬৫ রান। শেষ ৫ ওভারেই আসে ৫৫ রান। একই অবস্থা হয়েছিল জিম্বাবুয়ে ম্যাচেও। শেষ ৫ ওভারের কারণেই ওইদিন ১৪৪ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।

স্কোরবোর্ড শূন্য রেখে মুজিব উর রহমানের বলে ডাক নিয়ে প্রথমে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। এরপর ফরিদ মালিকের বলে বোল্ড হোন মুশফিক (৫)। প্রথম বলটি তিনি চার মারলেও পরের বলেই ইনসাইড আউট খেলতে গিয়ে হন বোল্ড।

তাদের বিদায়ের পরপরই মুজিব নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান সাকিবকে (১৫)। সৌম্যকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন মুজিবই। এতেই ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

এরপর হাল ধরেন রিয়াদ ও সাব্বির। রিয়াদ মারমুখি হলেও সাব্বির ছিলেন টেস্ট মেজাজে। ফলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই অবস্থা থেকে বের হতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন রিয়াদ।

নাইবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে নাজিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ বলে ৪৪ রান করে ফেরেন সাজঘরে। এরপর ২৭ বলে ২৪ রান করে মুজিবের শিকার হন সাব্বির। তাতেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ।

শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা না গড়তে পেরে ১৩৯ রানে অলআউট হয়ে ২৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশের।

মুজিব ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। গুলবাদিন নাইব ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। দুইটি উইকেট নিয়েছেন রাশিদ খানও।

এর আগে বল করতে নেমে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলে রহমতুল্লাহ গুরজাবের স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এই বিপর্যয় সামাল দিতে না দিতেই আবার আফগান ইনিংসে আঘাত হেনেছেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিনি হযরতুল্লাহ জাজাইকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেছেন।

এরপর ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আঘাত হেনেছেন সাইফুদ্দিন। এবার তিনি ফিরিয়েছেন নাজিব তারাকাইকে। ক্যাচ নিয়েছেন সাব্বির হোসেন। ষষ্ঠ ওভারে এসে ফের আঘাত হানেন সাকিব। তবে এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মোহাম্মদ নাবি ও আসগর আফগান।

পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটি থেকে আসে ৭৯ রান। ৬৩ বলে তারা এই রান করেন। ১৭তম ওভারে আসগর আফগানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সাইফুদ্দিন। একই ওভারে তিনি ফেরান গুলবাদিন নাইবকেও।

তবে এরপর শুরু হয় নাবি ঝড়। শেষ ৩ ওভারে শুধু তার ব্যাট থেকেই আসে ৩৫ রান। এ সময় তিনি খেলেন মাত্র ১৩ বল। নাবি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৭ ছয় ও ৩ চারে ৫৪ বলে করেন ৮৪ রান। আসগর আফগান ৩৭ বলে করেন ৪০ রান।

৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে সাইফুদ্দিন নিয়েছেন ৪ উইকেট। সাকিব ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। সৌম্য সরকার ২ ওভারে দিয়েছেন ৩১ রান।

মন্তব্য লিখুন :