ভালো নেই ৬১ পদক জয় করা ভারোত্তলক রতন কুমার

ভারত্তোলনে জাতীয় পর্যায়ে ১৬টি সোনা, ৩১টি রূপা আর ১২টি ব্রোঞ্জ। কেবল তাই নয়, তার ঝুলিতে আরো রয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক পদক আর ৮টি জাতীয় রেকর্ড। ১৯৮১ সালে তিনি মিষ্টার বাংলাদেশ খেতাব পান। দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে যার এত অবদান সেই রতন কুমার পাল আজ জীবনের সঙ্গে ধুঁকছেন। কেউ তার খোঁজ রাখে না।

কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট এলাকার দুই কক্ষ বিশিষ্ট ছোট একটি বাড়িতে এক ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস ১৯৮১ সালের মিষ্টার বাংলাদেশ খ্যাত রতন কুমার পালের। ১৯৮১ সাল থেকে ২০০০ সাল। টানা ২০ বছর তিনি শাসন করেছেন ভারত্তোলনের কোর্ট। এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ের ভারত্তোলন প্রতিযোগিতায় তিনি জিতেছেন ১৬টি সোনা, ৩১টি রূপা ও ১২টি ব্রোঞ্জ। এর মধ্যে ৮টি জাতীয় রেকর্ডও রয়েছে রতন কুমার পালের ঝুলিতে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি পেয়েছেন দুটি পদক।


ভারোত্তলক রতন কুমার পাল বলেন,অতিরিক্ত ভারোত্তলনের জন্য তার হাঁটুর হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার প্রায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে কৃত্রিম হাঁটু সংযোজন করিয়েছি অনেকদিন আগেই। পরে নানান রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। এখন আর ঠিকমত কথাও বলতে পারি না। সংসার চলে টেনে টুনে, কেউ খোঁজ রাখে না।

রতন পালের স্ত্রী যুথিকা রানী পাল বলেন, নিজে লাঠির সাহায্যে চলতে পারলেও থেমে গেছে পরিবারের রোজগার। তাই সরকারিভাবে রতন পালকে পৃষ্টপোষকতা করার আহ্বান জানান তিনি । এ দাবি সহ খেলোয়াড়দেরও ।

জিমন্যাস্টিক খেলোয়াড় দেবাশীষ পাল বলেন, রতন কুমার পালকে কুষ্টিয়া জিমনাস্টিক ক্লাব থেকে আর্থিক প্রনোদণা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ক্লাবটির সভাপতি।

কুষ্টিয়া জিমন্যাস্টিক ক্লাবের অ্যাড: মো: আব্দুল মজিদ বাবু বলেন, রতন কুমার পালের এই দুর্দিনে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকার তার পাশে দাঁড়াবে এমনটায় প্রত্যাশা স্থানীয়দের।