ইরানের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র

ক্ষমতাধর ছয় জাতির সঙ্গে ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত যে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সবগুলোই আবার ফিরিয়ে আনছে মার্কিন প্রশাসন।

সোমবার (৫ নভেম্বর) হতে কার্যকর হতে যাওয়া এসব নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময়ের চেয়ে ‘সবচেয়ে কঠোর’ বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট হাউস বলছে, এটা হবে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর নিষেধাজ্ঞা। ইরানের জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও ব্যাংক খাতকে লক্ষ্য করেই মূলত এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। 

এসব নিষেধাজ্ঞায় ইরান ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যরত দেশগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে। এতে ইরানের সবগুলো প্রধান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

এদিকে রবিবার হাজার হাজার ইরানি বিভিন্ন শহরে মার্কিনবিরোধী সমাবেশ করেছে। সমাবেশে তারা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে শ্লোগান দিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরতে সোমবার ও মঙ্গলবার বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক প্রচারণা সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসনের নেওয়া কৌশলের কারণে ইরান ইতোমধ্যেই চাপে পড়ে গেছে।

“ইরানের নিষেধাজ্ঞাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে এগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী। ইরানের কী হয় তা আমরা দেখতে পাব, তবে তারা খুব ভাল কিছু করছে না এটি আমি বলতে পারি,” বলেছেন তিনি।

২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় থাকার সময় বিশ্বের ক্ষমতাধর ছয়টি দেশের সঙ্গে ইরানের ওই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। চুক্তির শর্ত মতে, তেহরানের ওপর চাপানো সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল।

তবে চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটটি দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না। আমদানি করলে ওই দেশগুলোকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। সোমবার (৫ নভেম্বর) থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

ইরানের ওপর সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর শুক্রবার ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় তার ছবি দিয়ে লেখেন ‘স্যাঙ্কসনস আর কামিং’ যার অর্থ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা আসছে।

    


মন্তব্য লিখুন :