ভারত সীমান্তে বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জামসহ সেনা মোতায়েন চীনের

গত বছর ডোকলাম ইস্যুতে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠে ভারত ও চীন সম্পর্ক। দু’দেশেই সীমান্তে মোতায়েন করে বিপুল পরিমাণ সেনা। একসময় তারা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরই মাঝে বেশ কয়েকবার ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পরে চীনের সেনাবাহিনী। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সীমান্ত এলাকা। তবে ২০১৮ সালের শেষের দিকে উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পায়। দু’দেশই আলোচনার মাধ্যমে সৈন্য প্রত্যাহার করে।

তবে নতুন বছরের শুরুতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দু’দেশের সম্পর্ক। হঠাৎ করেই তিব্বত সীমান্তে হাউৎজার কামান, হেলিকপ্টার গানশিপ এবং বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জামসহ সেনা মোতায়েন করেছে চীন। এতে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভারত।

ভারতীয় মিডিয়া সূত্রে খবর, সমতল থেকে বহু উঁচু পার্বত্য এলাকায় এবং মালভূমিতে নিজের যুদ্ধ ক্ষমতা ও পারদর্শীতা ঝালিয়ে নিতেই তিব্বতের মালভূমিতে পাকাপাকিভাবে ঘাঁটি স্থাপন করেছে চীন।

মার্কিন মিডিয়ার দাবি, আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার চিনা সেনা আপাতত ঘাঁটি গেড়েছে ভারত সীমান্ত (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) থেকে অন্তত ৪০০ কিলোমিটার দূরে। লালফৌজের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীনে এই সেনা সমাবেশে যুক্ত হয়েছে প্রচুর হালকা ওজনের কামান যেগুলি দ্রুত নানা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এত উঁচুতে থাকতে তাকতে সেনারা যাতে অসুস্থ না হয় সেজন্য অক্সিজেন উৎপাদক প্ল্যান্ট ও অক্সিজেন স্টেশন তৈরি করেছে চিন।

তবে চীনের দাবি, তিব্বতে পিএলএ নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। শত্রুর আগ্রাসন রুখে দেওয়ার জন্য। আগ্রাসন চালানো বা যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য নয়।

কিন্তু এই অবস্থানও ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে চ্যালেঞ্জের বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

তবে ভারতীয় মিডিয়া বলছে, পরিস্থিতি যাতে খারাপের দিকে না যায় তারা সেদিক লক্ষ্য রাখছে ভারত সরকার। তিব্বত সীমান্তে ইতোমধ্যেই সেনাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবস্থা বুঝে সেখানে অতিরিক্ত সেনাও মোতায়েন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন :