চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা, ডিএফ-২৬ ক্ষেপণাস্ত্র প্রেরণ চীনের

দক্ষিণ-চীন সাগরে প্রভাব বিস্তার নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধ চলে আসছে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের। বিভিন্ন সময়ই একে অপরকে হুমকি দিয়ে আসছে এই দুই দেশ। গত সপ্তাহে চীনা নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল লু ইউয়ান দক্ষিণ-চিন সাগরে টহল দেয়া আমেরিকার দুইটি রণতরী উড়িয়ে দেওয়ার ও ১০ হাজার সেনাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

এরই প্রেক্ষিতে ওই এলাকায় অত্যাধুনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডিএফ-২৬’ মোতায়েন করেছে চীন। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের এই কাণ্ডে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই ও জাপান ওই সাগরে নতুন করে অস্ত্রসস্ত্র প্রেরণ করছে।

অন্যদিকে, চীনকে ঠেকাতে আরও রণতরী ও যুদ্ধবিমান প্রেরণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গ্লোবাল টাইমসের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পূর্ব ও দক্ষিণ-চীন সাগরে অত্যাধুনিক জাহাজ বিধ্বংসী ‘ডিএফ-২৬’ ব্যালিস্টিক মিসাইল মোতায়েন করেছে চিনের নৌসেনা। ডিএফ-২৬ ক্ষেপণাস্ত্রটি আণবিক বোমা বহনে সক্ষম। ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইলটি। ফলে এর আওতায় রয়েছে গুয়ামের মার্কিন নৌঘাঁটি। এই যুদ্ধাস্ত্রের শক্তিশালী রাডার সমুদ্রে শত্রুর রণতরী মুহূর্তে খুঁজে বের করতে পারে।

জানাগেছে, তাইওয়ান প্রণালীতে টহল দিয়ে গিয়েছে মার্কিন নৌবহর। তারপরই ওই অঞ্চলে এই মিসাইল মোতায়েন করল লালফৌজ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, দুই দেশের এই পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই ওই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাড়ছে যুদ্ধের সম্ভাবনাও। দ্রুত দু’পক্ষই সংযত না হলে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, চীনের দাবি, সমুদ্রসীমা পুরোটই তাদের। তবে আমেরিকার দাবি, এটি আন্তর্জাতিক জলসীমানা, এখানে বিচরণের অধিকার সবার আছে। এ নিয়েই মূলত দ্বন্দ্ব। এই জলসীমানা নিজেদের দাবি করছে জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ব্রুনাই ও অস্ট্রেলিয়াও। যে কারণে প্রত্যেকটি দেশেই ওই সাগরে নিয়মিত টহল দিয়ে আসছে।

তবে মূল লড়াইটা চলছে মূলত ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে। কারণ এই সাগরে থাকা বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ একাই ভোগ করতে চাইছে দুই দেশ। তাছাড়া এখানে নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে তারা। কারণ এখানে ঘাঁটি স্থাপন করা গেলে অন্তত ১০টি দেশের ওপর কতৃত্ব চালানো সম্ভব হবে।

এ কারণেই ওই এলাকায় দুইটি রণতরী নিয়ে দিনরাত পাহারা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সাথে মোতায়েন করেছে অন্তত ১০ হাজার সেনা। পালটা প্রস্তুতি নিয়েছে চীনও। সেখানে তারা ব্যালিস্টিক মিসাইল, আন্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেম ও জঙ্গিবিমান মোতায়েন করেছে। 

মন্তব্য লিখুন :