সরছে মার্কিন সেনা, নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি সিরিয়ায়

গত মাসে সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় নাটক। এর বিরোধীতা করে পদ থেকে ইস্তফা দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। সৈন্য সরানোর বিরোধীতা করে বিরোধী দলও। তাদের দাবি ছিল, সেনা সরিয়ে নেয়া হলে ফের সিরিয়ায় আইএস’র উত্থান হবে। তবে এরপরও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অবশেষে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিরিয়া থেকে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয় সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া। তবে সেনা প্রত্যাহারের কারণে দেশটিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ইতোমধ্যেই সিরিয়ায় অতিরিক্ত সৈন্য ও ভারি অস্ত্র প্রেরণ করেছে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক। তাদের ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ন্যাটোও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

মার্কিন সেনার কর্নেল শন রায়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিরিয়া থেকে তাদের সেনারা দেশে ফিরছে। তবে কোন রুটে বা কিভাবে ফিরছে তা নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিএনএন জানিয়েছে, বর্তমান সেনাঘাঁটি থেকে সাঁজোয়া গড়ি ও যুদ্ধের ভারি সরঞ্জাম সরাতে শুরু করেছে মার্কিন সেনা। ইতোমধ্যে ৪ ভাগের ১ ভাগ সেনা দেশে ফিরেছে।

আমেরিকার এই পদক্ষেপে আশঙ্কায় রয়েছে ইসরায়েল ও প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কুর্দ বিদ্রোহীরা। উদ্বিগ্ন ন্যাটো দেশগুলিও। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরায়েল ও ন্যাটো মিলে ২০০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানাগেছে।

উত্তর সিরিয়ার কুর্দ মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জমায়েত শুরু করেছে তুরস্কের মদতপুষ্ট বিদ্রোহীরা। উত্তর সিরিয়ায় কুর্দ মিলিশিয়া ‘কুর্দিশ পিপলস প্রোটেকশন ফোর্সেস’-এর (YPG) নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকার পাশে যোদ্ধাদের মোতায়েন করছে তুরস্কপন্থী হামজা ডিভিশন। আমেরিকার সেনা সরলেই তারা হামলা চালাতে পারে।

সীমান্তে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া ও ইরানের সৈন্যরাও। তারাও বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারি অস্ত্র মজুদ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তারাও নিজস্ব দুইটি ঘাঁটিতে ভারি অস্ত্র পাঠিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে যুদ্ধ লাগতে পারে দেশটিতে। এই যুদ্ধের ফলাফল হবে আগেরবারের চেয়ে ভয়ঙ্কর।

মন্তব্য লিখুন :