টেরিজা মের ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে ফের প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে ফের প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় চুক্তিটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। খবর বিবিসি।

আগামী ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মাত্র ১৭ দিন আগে ইইউয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর করা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলেন দেশটির এমপিরা। তবে জানুয়ারির প্রথম ভোটের চেয়ে ব্যবধান কমলেও এবার ১৪৯ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রধানমন্ত্রীর চুক্তিটিকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন তারা।

বিপর্যয়কর এই ফলাফলের পর মে বলেছেন, যুক্তরাজ্য কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে যাবে কি না এবার তাই নিয়ে ভোট দিবেন এমপিরা, এটিও যদি সমর্থন না পায় তবে ব্রেক্সিট কার্যকরে দেরি করা হবে কি না তাই নিয়ে ভোট হবে।

চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটিতে টোরি (রক্ষণশীল দল) এমপিরা অবাধে ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর অর্থ টোরি দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা দলীয় ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা অনুসরণ না করে নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন; কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে ভোটের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি।

অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি বলেছে, এটি দেখিয়েছে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সব যোগ্যতাই হারিয়েছেন।

পার্লামেন্টের এই ভোটের আগে ‘আইরিশ ব্যাকস্টপ’ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আইনি আশ্বাস আদায় করে নিয়ে তার চুক্তির প্রতি সমর্থন দিতে এমপিদের প্রতি শেষমূহুর্তেও আবেদন জানিয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ জনের মতো টোরি এমপির মত পরিবর্তন করাতে পারলেও শেষ রক্ষা হয়নি। জানুয়ারিতে ২৩০ ভোটের ব্যবধানে পরাজয় যে ইতিহাস রচনা করেছিল সেটিকে পাল্টে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল না এটি। এই পরাজয়ের মাধ্যমে মে-র ব্রেক্সিট কৌশল নতুন করে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেল।

হারের পর এক বিবৃতিতে মে বলেছেন, একটি চুক্তির মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হবে, এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে সেরা পরিণতি এবং দরকষাকষির মাধ্যমে যে চুক্তিটি আমরা করেছি সেটিই সেরা এবং একমাত্র চুক্তি যা আমাদের হাতে আছে, এই বিশ্বাস অব্যাহত রাখবো আমি।

মে জানিয়েছেন, এমপিরা কি ব্রেক্সিট দেরি করাতে চান, না আরেকটি গণভোটে চান অথবা তারা একটি চুক্তিসহ বের হতে চান এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন :