‘অন্তর্বাস’ ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি

অভিনেত্রী ও রামপুরের বিজেপি প্রার্থী জয়া প্রদাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বিপাকে সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান। তার অশালীন মন্তব্যে পুরো ভারতজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। পাশাপাশি এই নেতার প্রার্থীপদ খারিজের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন।

কী বলেছিলেন আজম?

রামপুরে ভোটের সভায় আজম খান বলেছিলেন, ১০ বছর উনি রামপুরের রক্ত চুষেছেন। আমি হাত ধরে ওঁকে এখানে এনেছিলাম। রাস্তাঘাট সব চিনিয়েছি। কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত দিইনি। কোনো খারাপ কথাও বলিনি। দশ বছর ধরে ওকে আপনারা জনপ্রতিনিধি করেও পাঠিয়েছেন। কিন্তু হিন্দুস্তানওয়ালো.... ওকে চিনতে আপনাদের সতেরো বছর লেগে গিয়েছে, আমি কিন্তু সতেরো দিনেই বুঝেছি ওর অন্তর্বাসের রঙ খাকি।

আজম খান কারো নাম উল্লেক না করলেও সেটা যে তিনি জয়া প্রদাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিলেন তা বুঝতে বাকি ছিল না কারো। এমন বক্তব্যের পরই মহিলার সম্ভ্রমহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

পরে আজমকে শাস্তি হিসেবে তিন দিনের জন্য ভোট প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। চাপের মুখে আজম অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি জয়াকে নিয়ে কিছু বলেননি, তাঁর নিশানায় ছিলেন আরএসএসের এক কর্মী।

এদিকে, এ বক্তব্যের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিংহের উদ্দেশে টুইট করে লেখেন, মুলায়ম ভাই, আপনি সমাজবাদী পার্টির নেতা। আপনার সামনে রামপুরের দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ হচ্ছে। ভীষ্মের মতো চুপ করে বসে থাকার ভুল করবেন না। তিনি এই টুইট জয়া বচ্চনকে ট্যাগ করেন।

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা বলেন, মহিলা ভোটারদের উচিত, আজমের মতো লোকেদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া।

জয়া প্রদা বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। ২০০৯ সালে সমাজবাদী পার্টিরই প্রার্থী হয়েছিলাম, তখন আমাকে সমর্থন করা দূরের কথা, আজম খান যে সব মন্তব্য করেছিলেন, মহিলা হয়ে সে কথা উচ্চারণও করতে পারছি না। এটাই তার চরিত্র।

কংগ্রেস নেতা মনু সিঙ্ঘভির টুইট, এই ধরনের মন্তব্য করে অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন আজম খান। এমন কথাবার্তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক। আশা করি, নির্বাচন কমিশন ও অখিলেশ যাদব বিষয়টি দেখবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, আজম খানই শুধু নয়, সমাজবাদী পার্টি ও বিএসপিরও উচিত দেশের মহিলাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

এসবের পর আজম খান বলেন, আমি রামপুরের নয় বারের বিধায়ক, মন্ত্রীও ছিলাম। কী বলতে হয়, জানি। কারও নাম করে অপমান করেননি। প্রমাণ করতে পারলে, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেব।’’ আজম সংবাদমাধ্যমকেও আক্রমণ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন :