ফের পাক-ভারত যুদ্ধাবস্থা, ট্যাংক-মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শাকাড়গড় সেক্টর সীমান্ত জুড়ে ৩০০টি ট্যাংক মোতায়েন করেছে পাক সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সেনার তিনটি বিভাগের তরফ থেকেই ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে।

এর জবাবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সীমান্তে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ফলে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পাক-ভারত সীমান্ত। তাছাড়া, দু’পক্ষের সেনারাই ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছে সীমান্তে।

জানাগেছে, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের মতো আরও হামলা চালানোর আশংকা করছে তারা। যা কিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকবারই জানিয়েছেন। ইসলামাবাদ মনে করছে ভারত আরও হামলা চালাতে পারে। যার জন্য তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।

এই কারণেই পাঞ্জাব প্রদেশের শাকাড়গড় সেক্টর সীমান্ত জুড়ে ৩০০টি ট্যাংক মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সেই সাথে মোতায়েন করা হয়েছে মিশাইলও।

ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তানের ট্যাংক মোতায়েনের জবাবে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট থেকে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমগুলিকে ফরওয়ার্ড পোস্টে মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। পাক বায়ুসেনার হামলা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাক যুদ্ধবিমানের গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে ভারতের রাডার। সীমান্ত পেরুলেই পাক যুদ্ধবিমানগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ‘এয়ার ডিফেন্স ইউনিট’-এর দায়িত্বে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ পি সিং।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামারে জইশের আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা করে। এতে ভারতের ৪৭ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জইশ ই মহম্মদের ক্যাম্পের এয়ারস্ট্রাইক করে ভারতীয় বায়ুসেনা। ভারতের দাবি এতে ১৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সে দাবি উড়িয়ে দেয়।

এরপর দু’পক্ষ বেশ কয়েকবার বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ভারতের দুইটি বিমান ধ্বংস করে পাকিস্তান। এরপরই ভারী গোলাবারুদ নিয়ে সীমান্তে অবস্থান নেয় দুই দেশের সেনারা।

গত ১৫ দিনে অন্তত ৩০ বার দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে কাশ্মীর সীমান্তে। এতে নিহত হয়েছে দু’দেশের সেনাসহ অন্তত ১০ বেসামরিক নাগরিক।

মন্তব্য লিখুন :