বিজেপি ঠেকাতে জোট করছে বিরোধীরা

গতকাল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের একটি ফলাফল ফাঁস হয়ে যায়। জনপ্রিয় সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে এক্সিট পোলের ফলাফল। এই খবর যদি সত্যি হয় তাহলে বেশ বড় ধরনের বিপদেই পড়তে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। কারণ ফাঁস হওয়া ওই ফল অনুযায়ী মাত্র ১৭৭ আসন পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বধীন এনডিএ জোট।

ফাঁস হওয়া তথ্য্য থেকে জানা যায়, দেশের ৫৪০টি লোকসভা আসনের একটি এক্সিট পোলের ফলাফল। সেখানে এনডিএ জোট পেতে চলেছে ১৭৭টি আসন। আর গতবারের তুলনায় ৭৬টি আসন বেড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে পারে ১৪১টি আসন। অন্যান্য দলগুলি ২২৪টি আসন পেতে চলেছে।

এই ফাঁস হওয়া তথ্যের পরই নড়েচড়ে বসেছে ভারতের দুই বড়, রাজনৈতিক দল বিজেপি ও কংগ্রেস। ফলাফল ফাঁসের ১২ ঘন্টার মাথাতেই সংবাদ সম্মেলনে আসেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী এবং সভাপতি অমিত শাহ। তারা দাবি করেন বিজেপি ৩শরও বেশি আসন পাবে।

এদিকে, ২০১৯ সালে নির্বাচন মিটতেই বিরোধীদের একত্র করার উদ্দেশ্যে শনিবার টিডিপি প্রধান তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। তাদের বৈঠকে নাইডু এবং গান্ধী আলোচনা করেন ২৩ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী ফ্রন্ট গড়ার ব্যাপারে। পাশাপাশ তিনি ওইদিন দেখা করেছেন সিপিআই নেতা সুধাকর রেড্ডি এবং ডি রাজার সঙ্গে।

চন্দ্রবাবু নাইডু- রাহুল গান্ধীর ঘন্টা খানেকের বৈঠক যেমন বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে তেমনই আবার সংখ্যা গরিষ্ঠতা কম থাকা বিজেপি যাতে সরকারের গড়ার জন্য অন্য দলগুলিকে ভাঙাতে না পারে তার জন্য কৌশলগত দিক থেকে তৈরি থাকার কথাও বলা হয়৷ ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী দিল্লিতে সমস্ত বিরোধী দলের নেতা নেত্রীদের ২৩ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে বৈঠকের জন্য ডেকেছেন , তার ঠিক পরের দিনই চন্দ্রবাবু নাইডু- রাহুল গান্ধীর বৈঠক এক নতুন মাত্রা দিল।

নাইডু জানিয়েছেন, বিরোধী সব দবলের জন্যেই দরজা খোলা রয়েছে এমন কী টিআরএসএর সঙ্গেও। যদিও টিআরএস প্রধান তথা তেলেঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বিজেপি ও কংগ্রেস বিরোধী তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার কথা বলেছেন। ইয়েদুরি এবং কেজরিওয়ালের সঙ্গে ২৩ মে পর জোট গড়া সম্ভাবনার কথা আলোচনা করেছেন।

তবে ওই জোট গড়লেও কোনো কাজে আসবে না। কারণ ভারতে সরকার গঠন করতে চাই ২৭২ আসন। শুধুমাত্র এনডিএ ও ইউপিএ পারবে কোনো দলের সাথে জোট গড়ে আসন গড়তে। তবে সে ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ইউপিএ। কারণ ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দল তাদের সাথে জোট গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মন্তব্য লিখুন :