রাতারাতি রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বানিয়ে ফেলল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া একটি দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই পরমাণু কেন্দ্রটিকে বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখছে দ.কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার একদল সংসদ সদস্য সে দেশের গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমনটাই তথ্য জানিয়েছেন।

বিশাল এই পরমাণু ঘাঁটিটি এক সময় বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পিয়ংইয়ং। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই খবরের সত্য হলে উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া থেকে আরও আরেক ধাপ পিছিয়ে যাবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজর এড়িয়ে ফের মিসাইলের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রনেতা কিম জং উনের নজরদারিতে সে দেশের বিজ্ঞানীরা এই অত্যাধুনিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মোতাবেক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর বিষয়ে কিমের নজরদারিকে খবরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবেদনে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

গত ১২ জুন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনও সময়সীমার কথা জানায়নি। বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া এখন আর পরমাণু হুমকি নয়।

এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের কথা বললেও এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। সিএনএন-এ প্রকাশিত নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার ইয়ংজেও-ডং পরীক্ষা কেন্দ্রের উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। ছবিতে আরও একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের অস্তিত্ব দেখা গেছে যেটির কথা পূর্বে জানা ছিল না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও এ ধরনের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাদের দাবি ছিল, গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে কিম জং উন।

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের মধ্যে গতমাসে ভিয়েতনামে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও দুপক্ষের মতানৈক্যের ফলে সেই বৈঠক ভেস্তে যায়। আর সেই বৈঠকের প্রায় এক মাস পর সিউলের পক্ষ থেকে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হল। মূলত ট্রাম্পকে জাবা দিতেই এই পরমাণুবাহী ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া, দাবি রয়টার্সের।

মন্তব্য লিখুন :