ভোট শেষ না হতেই তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষ

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টাহামলা শুরু হয়েছে। বাড়িতে ঢুকে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে।

শুক্রবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

নিউটাউনে তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। দুর্গাপুরের লাউদোহা এলাকার পাটশাওড়া গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

রাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাড়িতে ঢুকে রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি। খবর এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

মমতা ব্যানার্জি শাসিত এ রাজ্যে বিজেপির প্রবল উত্থান ঘটেছে এবারের নির্বাচনে। গত নির্বাচনে এই রাজ্যে মাত্র দুটি আসনে জয়ী হলেও এবার ১৮ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। দলের এমন উত্থানের পর রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীরা সামনে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে চাঙ্গা হয়ে উঠছেন।

এর মাঝেই শুক্রবার ভোরের দিকে পাটশাওড়া গ্রামে তৃণমূলের কর্মী প্রতিমা বাগদির বাড়িতে রড, শাবল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বিজেপির নেতাকর্মীরা। ভাংচুর তাণ্ডবের পর মারধর করা হয় প্রতিমার পরিবারের সদস্যদের।

মারের হাত থেকে রেহাই পাননি নারী সদস্যরাও। তৃণমূল বলছে, বিজেপির নেতাকর্মীরা তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করে হাত ভেঙে দিয়েছে। ঘর থেকে টেনে বের করে নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়। এ ঘটনায় দুর্গাপুর ফরিদপুর থানায় তৃণমূল অভিযোগ দায়ের করেছে।

স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাকুড়ার শালতোড়া এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে বিজেপির এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ভাংচুর করা হয়েছে তৃণমূল নেতার বাড়ি।

এদিন সকাল থেকে দফায় দফায় দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিদ্যুৎ দাস নামের স্থানীয় বিজেপি নেতার বাম কানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শালতোড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্যারাকপুরে দু’দলের সংঘর্ষে ডজনখানেক আহত হয়েছেন। শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বিজেপির কর্মী।

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা কালীপদ রায়ের নির্দেশে পুলিশের সামনেই গুলি চালিয়েছে শাসক দলের কর্মীরা। ঘটনার পর কালিপদ রায়কে গ্রেফতার ও শালতোড়া থানার ওসির বদলির দাবিতে থানা ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মীরা।

গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কালীপদ রায়। তার পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা অতর্কিত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের ৪০ ভাগ বিজেপির পকেটে : মমতা ব্যানার্জির ‘চুপচাপ ফুলে ছাপ’ স্লোগানেই পশ্চিমবঙ্গে পতন ঘটেছিল ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের। সালটা ছিল ২০১১। ৮ বছর পর আবারও সেই একই স্লোগানের পুনরাবৃত্তি।

শুধু একটা শব্দের রদবদল। মমতার স্লোগানে ছিল ‘ফুল’। সেটা এডিট করে অমিত শাহের নতুন স্লোগান, ‘চুপচাপ পদ্মছাপ’। মমতার ওই স্লোগানকেই হাতিয়ার করে বাংলায় তৃণমূলকে বড়সড়ো ধাক্কা দিল পদ্মবাহিনী। ২৩টি আসনে জেতার লক্ষ্যমাত্রা না হলেও, বাংলায় ১৮ ছুঁয়েই খুশিতে ডগমগ দিলীপ ঘোষরা। পশ্চিমবঙ্গের ৪০ ভাগ আসন দখল করে নিঃসন্দেহে বাংলায় বড়সড়ো উত্থান ঘটল বিজেপির।

এনডিটিভি জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে লোকসভা ভোট কার্যত ছিল সেমিফাইনাল ম্যাচ। সেমিফাইনালে যেভাবে বাংলার বুকে ঝড়ো ইনিংস খেলল পদ্মবাহিনী, তাতে মমতা শিবিরের ধুকপুকানি যে বাড়ল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই পদ্মফুল ফুটেছে। ৪টি আসন বেশি পেয়ে তৃণমূলের দখলে ২২টি। একেবারে তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে মাত্র ২টি আসন জিতে গেরুয়া বাহিনী পেয়েছিল ১৮ শতাংশ ভোট। ৫ বছর পর বিজেপির ভোট শতাংশ দ্বিগুণ হয়েছে। এবার ১৮টি আসন জিতে বিজেপি পেয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি ভোট।

লোকসভা নির্বাচনে এবার বাংলাকে পাখির চোখ করেছিলেন মোদি-শাহরা। বারবার বাংলায় এসে ভোট প্রচারও করেছেন তারা। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেই বাংলায় সংগঠন বাড়ানোর কাজ শুরু করে গেরুয়া বাহিনী।

এদিকে আজ শনিবার হরীশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে মমতা জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন জয়ী ও পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীরা। উপস্থিত থাকবেন দলের জেলা পর্যবেক্ষকরাও। সেখানে ২০২০ সালের পৌরসভা এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কার্যনীতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন মমতা।

মন্তব্য লিখুন :