তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৬৫ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কমপক্ষে ৬৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ মে) উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে আরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

এছাড়া নৌকাডুবির ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

তিউনিশিয়ার প্রতিরক্ষা দফতর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নৌকাডুবির ঘটনা জানার পর পরই দেশটির নৌবাহিনীর একটি জাহাজ উদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় একটি মাছ ধরা নৌকাও জীবিতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করে।

জীবিত উদ্ধাররা জানিয়েছে, লিবিয়ার জোয়ারা থেকে অভিভাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে একটি নৌকা বৃহস্পতিবার রওনা হয়। কিন্তু সাগরের উত্তাল স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া এবং ইউরোপের এই রুটটিতে ১৬৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ডুবে মারা যায়। যার মধ্যে তিউনিসিয়া উপকূলের এই দুর্ঘটনাকে চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌকাডুবির ঘটনা।

ইউএনএইচসিআর বলছে, জীবিতদের উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী উপকূলে নিয়ে এসেছে এবং তাদেরকে দেশটিতে আশ্রয়ের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া জীবিতদের মধ্যে আহত একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নৌকাটিতে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আফ্রিকার সাব-সাহার অঞ্চল থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপে প্রবেশের প্রধান পয়েন্ট হওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী এই রুটটি ধরে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে খুবই নিম্নমানের নৌকা এবং অতিরিক্ত লোকবোঝাই এসব নৌকা প্রায় সময় ডুবে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই রুটে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আনাগোনা কিছুটা কমেছে।

ভূমধ্যসাগর হয়ে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৫ হাজার ৯০০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে প্রবেশ করেছে। যা গত বছরের এই একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

মন্তব্য লিখুন :