শক্তিশালী হচ্ছে বায়ু, প্রভাবে নিহত ৬

ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’। ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় এই ঝড়ের প্রভাবে মোট ছ’জন নিহতের খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

নিহতদের মধ্যে নর্মদায় দু’জন, তাপিতে দু’জন, দাং এলাকায় একজন ও গান্ধীনগরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার মানুষকে। নৌকা, গাছ কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এনডিআরএফের ৫২টি টিম। সমুদ্রে অপেক্ষা করছে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর ১০ কলাম এয়ারক্রাফট ও যুদ্ধজাহাজ।

ইতিমধ্যেই এই ঝড় অত্যন্ত ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে। ঝড়ের অভিমুখও খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঝড় আছড়ে পড়বে গুজরাট উপকূলের ভেরাভাল ও দ্বারকার মাঝে। মহারাষ্ট্র ও গোয়ায় ইতিমধ্যেই এই ঝড়ের প্রভাবে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার সব সমুদ্র সৈকত বন্ধ রেখেছে। গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় ১৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে এই ঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই বহু ট্রেন বাতিল করে দিয়েছে ভারতীয় রেল। গুজরাট থেকে ছাড়ে এমন ১১০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আগামী দু’দিন বাতিল থাকবে সেসব ট্রেন। ভারতীয় রেল জানিয়েছে, বাতিল ট্রেনের বদলে চালানো হবে কিছু স্পেশাল ট্রেন। ১৪ জুন পর্যন্ত এসব রেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

গুজরাটের গান্ধীনগর, ভাবনগর পারা, পোরবন্দর, ভেরাভার ও ওখা এলাকা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানা গিয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি গুজরাট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। সাইক্লোন মোকাবেলার পুরো প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বিমানযাত্রীরা যাতে বিপদে না পড়ে যান তার জন্য বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ এই তালিকায় রয়েছে পোরবন্দর, দিউ, ভাবনগর, কেশোড় এবং কান্ডলা বিমানবন্দরগুলি৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত্রি পর্যন্ত এইসব বিমানবন্দরে পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

মন্তব্য লিখুন :