গতিপথ পরিবর্তন করছে বায়ু

গুজরাতের উপকূল থেকে ক্রমশ সমুদ্রের দিকে সরে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘বায়ু’। ধারণা করা হচ্ছে এটি আগামীকাল সকালের মধ্যে আঘাত হানবে। তবে এ সময় তার পূর্ণ শক্তি থাকবে না।

বায়ুকে বলা হয়েছিল ক্যাটেগরি ২ ঘূর্ণিঝড়, কিন্তু তা শক্তিক্ষয় করে ক্যাটেগরি ১ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সমুদ্রের দিকে সরলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ১৩৫ কিমি থেকে ১৪৫ কিমি বেগে হাওয়া বইতে পারে।

আশঙ্কা করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার বিকালে গুজরাটের পোরবন্দর ও ভেরাভালের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ‘তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ বায়ু স্থলে উঠে আসবে। কিন্তু পরে আবহওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা মনোরমা মোহন্ত জানান, ঘূর্ণিঝড় বায়ু গুজরাটে আঘাত হানবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরেই দ্বারকার কাছাকাছি বায়ুর আছড়ে পড়ার কথা ছিল। বুধবার মাঝরাত থেকেই পোরবন্দর, দিউ, ভাবনগর, কেশড, কান্দলায় বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ৭০টি ট্রেন বাতিল হয়েছে, ২৮টি ট্রেনের সময়ের বদল ঘটেছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কেরল ও কর্নাটক উপকূল এবং লক্ষদ্বীপের মৎস্যজীবীদের।

সতর্কর্তা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত উপকূল বরাবর সব স্কুলে-কলেজ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নৌবাহিনীর ডুবুরি দলগুলোকেও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।

গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় এই ঝড়ের প্রভাবে মোট ছ’জন নিহতের খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

নিহতদের মধ্যে নর্মদায় দু’জন, তাপিতে দু’জন, দাং এলাকায় একজন ও গান্ধীনগরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে ৩ লক্ষ ১০ হাজার মানুষকে। নৌকা, গাছ কাটার মেশিনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এনডিআরএফের ৫২টি টিম। সমুদ্রে অপেক্ষা করছে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর ১০ কলাম এয়ারক্রাফট ও যুদ্ধজাহাজ।

মন্তব্য লিখুন :