ভয়ঙ্কর এক প্রেমিকের কাণ্ড!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের নোয়াপাড়ার একটি বস্তিতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন রবিউল। তাদের পাশের ঘরেই থাকতেন রহমত নামের এক যুবক। কিছুদিন আগে রহমতের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তার শ্যালক ফিরোজ। কয়েকদিন সেখানে থাকার সুবাদে রবিউলের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে ফিরোজ পালিয়ে যান রবিউলের স্ত্রীকে নিয়ে। তা সত্ত্বেও স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল রবিউল। এমনকি স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য পড়শিদের বারবার অনুরোধও করে সে। তার অভিযোগ, পড়শিরা তার আবেদনে কান দেননি।

এতেই ক্ষিপ্ত হন রবিউল। পাতেন মৃত্যু ফাঁদ। বুধবার রাতে রবিউলদের বাড়ির উল্টো দিকের একটি বিয়েবাড়িতে বস্তির সকলের নিমন্ত্রণ ছিল। রাত আড়াইটে পর্যন্ত বস্তির সকলে সেই অনুষ্ঠানবাড়িতেই ছিলেন। বস্তি ছিল প্রায় ফাঁকা। আর সেই সুযোগটাকেই ফাঁদ পাতার কাজে লাগায় রবিউল।

বস্তিতে কেউ না-থাকায় রবিউল নির্বিবাদে প্রায় ৫০ মিটার লোহার তার বিছিয়ে দেয় সব ঘরের সামনে মাটির উপরে। তার পরে কেরোসিন ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় রহমতের বাড়িতে। নিজের ঘরে ফিরে একটি প্লাগ থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেয় সারা বস্তিতে বিছানো লোহার তারে।

রহমতের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে অনুষ্ঠানবাড়ি থেকে হুড়মুড়িয়ে ছুটে আসতে থাকেন বস্তিবাসীরা। নিজের ঘরের সামনে পৌঁছনোর পরে লোহার তারে পা পড়তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান রহমত (২৮)। একই ভাবে সুলতান আহমেদ (৪৫) এবং জাকির হোসেন (২৩) মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় চার মহিলা এবং তিনটি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আগুন ধরিয়ে পালানোর সময় রবিউলকে দেখে ফেলেন ওই বস্তিরই বাসিন্দা সাবিরা বিবি। ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় রবিউল। বৃহস্পতিবার সকালে বালিগঞ্জ স্টেশনে তাকে দেখতে পান এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা। পরে গণপিটুনি দিয়ে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

মন্তব্য লিখুন :