পাঁচ ভাইয়ের এক বউ!

এক নারীর বহু বিবাহ হলেও একসাথে ২ স্বামী থাকলে কোনো পুরুষই মেনে নেয় না। মেয়েদের বেলাতেও একই অবস্থা। কোন পুরুষই চাইবে না তা স্ত্রীকে অন্যের সাথে ভাগ করতে। তবে রীতি পালন করতে ঘটা করে এক তরুণীর সঙ্গে একই পরিবারের সমস্ত ভাইদের বিয়ে দেওয়া হয় ভারতের এক জেলায়।

হিমাচল প্রদেশের কিন্নর। কিন্নর ইন্দো-তিব্বতের সীমানার কাছে একটি জেলা। যে পলিঅ্যান্ড্রি বা মহিলাদের বহুবিবাহের কথা বলা হচ্ছে তা চালু রয়েছে এখানেই।

মহাভারত অনুসারে, ১৩ বছরের জন্য রাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন পাণ্ডবরা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তাঁরা নাকি তখন এই কিন্নরেই লুকিয়ে ছিলেন। সেই থেকেই নাকি এই অঞ্চলে মহিলাদের বহু বিবাহের প্রচলন। 

এখানে একটি পরিবারে বিয়ে হয়ে আসা তরুণীকে একই সঙ্গে তাঁর স্বামীর অন্য ভাইদেরও বিয়ে করতে হয়। যদি পাঁচ ভাই বা তারও বেশি হয় তাহলে একজনকেই পালা করে তাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিয়ে করে আসার পর যতগুলো সন্তানের জন্ম তিনি দেবেন, তাদের প্রকৃত বাবার পরিচয়ের জন্য পুরো পরিবার ওই তরুণীর কথাতেই ভরসা রাখে। তবে প্রকৃত বাবা যিনিই হন না কেন, প্রতিটা সন্তান বড়ভাইকেই বাবা সম্বোধন করবে এবং বাকিদের কাকা। রীতি এমনটাই।

ইতিহাসবিদদের মতে, ছেলেদের বিয়ের পর জমি যাতে ভাগ না হয় সেই চিন্তাভাবনা থেকেই ‘দ্রৌপদী’ প্রথার প্রচলন এই অঞ্চলে।

তবে শুধু কিনৌর নয়, ভারতের বেশ কিছু উপজাতির মধ্যে মহিলাদের বহু বিবাহ প্রথা চালু রয়েছে এখনও। দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালার নীলগিরির টোডাস এবং উত্তর ভারতে মুসৌরি থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে জওনসর-বাওয়ার অঞ্চলের উপজাতিদের মধ্যেও এই রীতি দেখা যায়।

তবে যেসব নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। পলিঅ্যান্ড্রির চল তাই আগের থেকে এখন অনেকটাই কমেছে কিন্নরে।  

মন্তব্য লিখুন :