আগুন নেভাতে অ্যামাজনে সেনা মোতায়েন

প্রবল প্রতিবাদ ও আমাজোনিয়ানদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অবশেষে দাবানল রুখতে তৎপর হল ব্রাজিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে গত শুক্রবার থেকেই আগুন নেভাতে উদ্যোগী আমাজনের অপর অংশীদার দেশ বলিভিয়া। বিরাট বিমানের সুপার ট্যাংকারে আকাশ থেকে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।

ব্রাজিলে আমাজনের জঙ্গলে হাজার হাজার জায়গায় আগুন জ্বলছে। গত এক দশকে এত ব্যাপক মাত্রায় সেখানে দাবানল সৃষ্টি হয়নি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরাঞ্চলে রোরাইমা, একার, রনডোনিয়া এবং আমাজোনা রাজ্যে, পাশাপাশি মাতো গ্রোসো ডো সুল এলাকাতে।

সোমবার ব্রাজিলের সাও-পাওলোতে বনের আগুনের ধোঁয়াতে দিনের বেলাতেই গোটা শহর ধোঁয়াতে অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনটি লাগে আমাজোনাস ও রোনডোনিয়া বনাঞ্চলে। সেখান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাও-পাওলোতে বিকাল তিনটের পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা গোটা শহরকে অন্ধকার করে দেয় ধোঁয়া।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

 আইএনপি’র তথ্য অনুযায়ী বনটিতে প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে দেড় গুণেরও বড় এলাকা ধ্বংস হচ্ছে। ফিফার ফুটবল মাঠের মাপকে অনুসরণ করে হিসাব করলে, এই ধ্বংসের পরিমাণ প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার (৯,৬০০)।

বিবিসি, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবানলের আগুন ঘিরে তৈরি হয়েছে বাম-ডান রাজনৈতিক বিতর্ক। যার কেন্দ্র ব্রাজিল ও বলিভিয়ার দুই বিপরীত রাজনৈতিক মেরুর সরকার। ব্রাজিল দক্ষিণপন্থী ও বলিভিয়া বামপন্থী। আমাজন বৃষ্টি অরণ্যের দাবানল থামাতে ব্রাজিল সরকার ও প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো-এর অবস্থান প্রবল সমালোচিত।

ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যথেচ্ছ বেসরকারি সংস্থাকে আমাজনের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়াই বিপদ ডেকে এনেছে। অপরদিকে বলিভিয়া প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের নির্দেশে চলছে সুপার ট্যাংকারে করে আকাশ থেকে জল ফেলার কাজ। সে সঙ্গে তিনশ বলিভিয়ান ফায়ার ফাইটার হেলিকপ্টার করে আগুন নেভাতে নেমে পড়েছেন।

শুক্রবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শত শত পরিবেশবাদী। ইয়োথ ফর ক্লাইমেট নামে একটি গ্রুপ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। ‘অ্যামাজনের জন্য প্রার্থনা’, ‘অ্যামাজন থাকুক, বলসোনারো সরে যাও’, ‘বন ছাড়া আমরা ধ্বংস হবো’সহ নানা ধরণের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। অনেক বিক্ষোভকারী রক্তের আদলে রং মেখে বিক্ষোভে অংশ নেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় ওই বিক্ষোভ থেকে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরেও একই ধরণের বিক্ষোভ হয়। ব্রাজিলের আগুনের ছবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। অনেকেই ‘বয়কট ব্রাজিল’ লেখা প্রতীক হাতে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

এর প্রেক্ষিতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট। ইতোমধ্যেই আগুন নেভাতে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

মন্তব্য লিখুন :