জুম্মার পর কাশ্মীরে বিক্ষোভ, যা দেখেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আবারও বিক্ষোভ হয়েছে কাশ্মীরে। এ সময় বিক্ষোভ ঠেকাতে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপাক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পাশাপাশি ধরপাকড় করেছে।

সংবাদ মাধ্যম এপির খবর, শ্রীনগর ও কাশ্মীরের প্রধান প্রধান মসজিদগুলোয় এ দিনও জমায়েত করতে দেয়নি প্রশাসন। ছোট মসজিদগুলিতে পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয় স্থানীয়দের। কোনও বড় বিক্ষোভ না হলেও শ্রীনগরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ও ছররা বন্দুক ছুড়ে, লাঠি চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

এদিকে, কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে শ্রীনগরের তিনটি প্রধান হাসপাতালের ডাক্তারদের ওপর। কেউ মারা গেলে আপাতত ডেথ সার্টিফিকেট না দিতে ‘কড়া নির্দেশ’ দিয়েছে প্রশাসন। কারও অসুস্থতা বা ছররার আঘাত নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলা বা প্রেস বিবৃতি প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর এক কর্তা বলেন, ‘‘সম্প্রতি কাঁদানে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার পীড়াপীড়ি করার পরেও নিষেধাজ্ঞার কারণে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যায়নি।

এর আগে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ শ্রীনগরের অন্তত ছ’টি গ্রামে, যেখানে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটছে, মূলত সেখানেই মধ্যরাতে তরুণদের ঘর থেকে বার করে বেদম মারধর করা হচ্ছে। অজ্ঞান হয়ে গেলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে সংজ্ঞা ফিরিয়ে ফের মারা হয়েছে। বহু তরুণ তাঁদের শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখিয়েছেন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধিকে।

কাশ্মীরের প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর তরফে লিখিত ভাবে বিবিসিকে বলা হয়েছে, জওয়ানেরা কোনো স্থানীয়কে মারধর করেনি। তেমন কোনো অভিযোগও তাদের কাছে আসেনি। বিবৃতিতে বলা বয়েছে, পেশাদার বাহিনী হিসেবে মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয় ভারতীয় সেনারা।

তবে নির্যাতিত এক তরুণ বিবিসিকে জানিয়েছেন, জামাকাপড় খুলে সেই মার এত ভয়ঙ্কর, যে এর চেয়ে গুলি করে মেরে ফেললে কম কষ্ট হত। অন্তত ১৫ জন জওয়ান তাঁকে মাটিতে ফেলে বন্দুকের বাট, লাঠি এমনকি লোহার রড দিয়ে পেটায়। মারের পরে তরুণদের বলা হয়েছে, বাকিদের সে কথা বলতে, যাতে কেউ বিক্ষোভ দেখানোর সাহস না করে।

আর এক তরুণ অভিযোগ করেছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সেনাশিবিরে ডেকে পাঠানো হয়। তার পরে পিছমোড়া করে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারা হয়। তাঁর ডান পায়ের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন :