পরমাণু নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিতে বৈশ্বিক রোষানলে ভারত

পাকিস্তান সম্পর্কে ভারতের কঠোর অবস্থান তুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর ভারতের পরমাণু নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়ার পর পাল্টা জবাব দিল পাকিস্তান। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ কুরেশি বলেন, রাজনাথের মন্তব্য 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' এবং 'দুর্ভাগ্যজনক'। নেহরুর রাষ্ট্রনীতি থেকে অনেকটাই সরে এসেছে মোদীর ভারত।

মোদীর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথের বার্তার প্রতিক্রিয়ায় যে পাকিস্তান সরব হবে, তা অবশ্য প্রত্যাশিতই ছিল। কার্যত পাকিস্তানকে মাথায় রেখেই মোদী সরকার এই 'হুমকি' দিয়েছে বলে মনে করছে ভারতের কূটনৈতিক শিবির। পাশাপাশি রাজনাথের এই মন্তব্যের সমালোচনাও হচ্ছে বিস্তর। বলা হচ্ছে, রাজনাথের মন্তব্য আন্তর্জাতিক আঙিনায় ভারতকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। 

নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার গ্রুপ (এনএসজি)-এর মতো অভিজাত পরমাণু ক্লাবে ঢোকার জন্য এক দশক ধরে লাগাতার চেষ্টা করছে দিল্লি। পরমাণু অস্ত্র সম্প্রসারণ-বিরোধী চুক্তি বা সিটিবিটি-তে সই না করা ভারতের পক্ষে কাজটি এমনিতেই কঠিন। সেখানে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের প্রশ্নে দিল্লি তার ট্র্যাক রেকর্ডকেই বারবার তুলে ধরেছে। কিন্তু, এ বার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে প্রথম পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে যে ইঙ্গিত দিলেন রাজনাথ, তাতে আমেরিকা থেকে চীন প্রত্যেকের কপালেই ভাঁজ পড়বে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। 

সেই সঙ্গে এবার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নে ভারতের দিকে আঙুল তোলাটাও ইসলামাবাদের জন্য সহজ হয়ে গেল বলে অনেকের মত। কার্যত সেই প্রচারই শুরু করলেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে কাশ্মীর প্রশ্নটি যখন জাতিসংঘ পর্যন্ত গড়িয়েছে, তখনই দিল্লির এই শক্তি প্রদর্শনের আগ্রহকে সামনে আনা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে।

রাজনাথ যা বলেছেন মোদী সরকারের মুখপাত্র হিসেবেই বলেছেন এবং খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে চমক দেয়াটা নরেন্দ্র মোদীরই বিশেষত্ব। সে সার্জিকাল স্ট্রাইক হোক, বা বালাকোট অভিযান, অথবা নওয়াজ শরীফের বাড়িতে চলে যাওয়া বা নোটবন্দির মতো সিদ্ধান্ত। এবারের লোকসভায় ৩০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পরেই ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে সাহসই দেখিয়েছে সরকার। 

রাজনাথের মুখে বিতর্কিত মন্তব্য সেই সাহসই বজায় রেখেছে। ঘরোয়া রাজনীতিই হোক বা বৈদেশিক প্রশ্ন, দাপট নিয়েই এগোতে চাইছেন মোদী-অমিত শাহরা। তবে, পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে পরমাণু প্রসঙ্গ টেনে মোদী যে বিশ্ব শক্তিদের চটিয়ে দিয়েছেন তার উত্তাপ কতটা সইতে পারবে ভারত তা নিয়ে নতুন শঙ্কা খোদ বিজেপির মধ্যেই।

মন্তব্য লিখুন :