জাকির নায়েকের উদ্দেশ্যে যা বললেন মাহাথির

বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। 

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েকের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সংখ্যালঘুদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দিয়ে তিনি সীমা ছাড়িয়েছেন। 

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। অতীতে এই ইসলামি বক্তাকে মাহথির সমর্থন দিলেও এই প্রথম তিনি তার সমালোচনা করলেন।

মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও জাতিগত ইস্যুকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ মুসলমান আর বাকিরা চীন ও ভারতের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ। সম্প্রতি জাকির নায়েক মন্তব্য করেছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের চেয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুরা শতগুণ বেশি অধিকার ভোগ করছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী হিন্দুরা দেশটির চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে বেশি। 

তবে জাকির দাবি করেছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দুদের নিয়ে জাকিরের এই মন্তব্যের জেরে তাকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। এখন এই তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে সরকার। তদন্তে সত্যতা পেলে তাকে মালয়েশিয়ায় বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে। নাজিব রাজাকের বিগত সরকার জাকির নায়েককে স্থায়ী আবাসিকতার অনুমোদন দেয়। গত তিন বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জাকির নায়েক সংখ্যালঘুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে জাতিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়া চেষ্টা করেছেন ‘এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার’।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তাকে কে প্রথমে স্থায়ী আবাসিকতা দিয়েছেন, তা আমি জানি না। তবে তিনি স্থায়ী আবাসিক হিসেবে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না। তিনি ইসলাম নিয়ে কথা বলতে পারেন, ধর্ম প্রচার করতে পারেন। তবে চীনাদের ফেরত পাঠাতে বলে তিনি যা (রাজনীতি নিয়ে খেলা) করেছেন। এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট যে, তিনি জাতিগত রাজনীতি নিয়ে খেলতে চান।

মন্তব্য লিখুন :