কাশ্মীর: ভারতের কোনো দাওয়াই কাজে আসছে না

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরকে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারায় যে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া হয়েছিল তা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এরই সঙ্গে রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ৩৫-এ ধারাও বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ভারতের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে মোদি সরকার এ কাজটি সম্পন্ন করে। ওইদিনই ভারতের অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা হ্রাস করে জম্মু-কাশ্মীরকে পৃথক করে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চালু করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর থেকেই কার্যত অসন্তোষ বিরাজ করছে গোটা উপত্যাকায়।

যে কারণে গোটা কাশ্মীরজুড়ে জারি রয়েছে কারফিউ। সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তবে যখনই তারা সুযোগ পাচ্ছে বিক্ষোভের চেষ্টা করছে। এ কারণে অশ্বস্তিতে রয়েছে ভারত সরকার। তাছাড়া এই অবস্থায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপও।

দু’সপ্তাহ টানা ‘ঘরবন্দি’ থাকার পর কাশ্মীরকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে ভারত। সোমবার কিছু স্কুল, সব সরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। সরকারি অফিসেও হাজিরা নামমাত্র। কার্ফু উঠলেও মোড়ে মোড়ে সেনার কড়া নজরদারি বহাল রয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট এখনও বন্ধ। ছাড়া হয়নি গ্রেপ্তার হওয়া শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকে। সব মিলিয়ে শ্রীনগর-সহ গোটা উপত্যকা জুড়ে এখনও থমথমে পরিবেশ।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সোমবার সরকারি অফিসে কর্মীদের হাজিরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। তার চেয়েও নগণ্য সাধারণ মানুষের উপস্থিতি। হাতে গোনা দু’-একজন কাজে এসেছিলেন কিছু অফিসে। তার বাইরে সিংহভাগ অফিস ছিল সুনসান।

 শ্রীনগরের ৯০০ স্কুলের মধ্যে খুলেছিল ১৯৬টি। কিন্তু সেখানে পডু়য়াদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। শিক্ষকদের হাজিরাও পর্যাপ্ত ছিল না। অনেক স্কুলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সব স্কুলে শিক্ষকরাও বাড়ির পথ ধরেছেন নির্ধারিত সময়ের আগেই। একজন পড়ুয়াও আসেনি, এমন স্কুলও রয়েছে। তবে বেসরকারি কোনও স্কুল খোলেনি।

শ্রীনগরের ডেপুটি পুলিশ কমিশানার শাহিদ ইকবাল নির্ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানান। এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নেবেন বলে জানান। কিন্তু সেই আশ্বাস এবং আবেদনে কাজ হয়নি। স্কুলে উপস্থিতিরনেই বললেই চলে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, রবিবার রাতেও শ্রীনগরে রাতভর দফায় দফায় সঙ্ঘর্ষ হয়েছে নিরাপত্তা কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের। তার জেরে শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকায় ফিরে এসেছে কার্ফুর মতো পরিস্থিতি। মোবাইল-ইন্টারনেট চালু করেও বহু জায়গায় ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, কাশ্মীরের বিভিন্ন কারাগারে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি হোটেল ও লজগুলোকে কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সোমবারও বেশ কয়েক স্থানে বিক্ষোভের খবর পেয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে বেশ বিপাকেই পড়ছে ভারত সরকার।

বিশ্লেষকদের দাবি, কারফিউ তুলে নিলে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে কাশ্মীর সমস্যা। সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ বা আন্দোলন হতে পারে বলে ধারণা তাদের। এমন হলে ভারত সরকারও তাদের দমাতে দমন-পীড়নের সাহায্য নেবে। তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে।

মন্তব্য লিখুন :