কাশ্মীর ইস্যুতে মুখোমুখি ভারত-চীন

কদিন পরেই ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ওই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। তবে এর আগেই কাশ্মীর ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই দেশ।

গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বৈঠকের পরে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি কাশ্মীর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। পাকিস্তানের সমস্ত ‘প্রধান’ বিষয়ে তাদের পাশে আছে চীন। যৌথ বিবৃতিতেও বলা হয়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে জাতিসংঘের সনদ মেনে।

এই বক্তব্যের ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই ভারতের তরফ থেকে ত্রীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রভিশ কুমার বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট শিং জিন পিং এবং ইমরান খানের বৈঠক সম্পর্কিত রিপোর্টটি দেখেছি। যেখানে তাদের কাশ্মীর নিয়ে আলোচনার বিষয়টির উল্লেখ আছে। জম্মু ও কাশ্মীর অখন্ড ভারতেরই অংশ, প্রথম থেকেই এ নিয়ে ভারত নিজের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে এসেছে। ভারতের এই অনড় অবস্থান নিয়ে চীন অবগত। অন্য দেশের ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।

চিনের স্থানীয় সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বেইজিংয়ে দেখা করার পর প্রেসিডেন্ট শিং জিন পিং জানিয়েছেন, কাশ্মীরের ভালো এবং খারাপ অবস্থা দুই নিয়েই আগে থেকে অবগত ছিলাম। ভারত-পাকিস্তানের উচিত কথোপকথনের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা।

তামিলনাড়ুর মল্লপুরমে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক দু’দিন আগেই চীন-পাকিস্তান নেতার সাক্ষাতে উঠছে প্রশ্ন। জোরালো হচ্ছে জল্পনা। অক্টোবরের ১১ এবং ১২ তারিখ একটি অধিবেশনে দেখা করবেন তারা।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদি ও শি বৈঠকে অবধারিতভাবেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ আসবে। তবে শুধুই কাশ্মীরের ছায়ায় যাতে মমল্লপুরম ঢেকে না-যায়, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা দু’তরফেই থাকবে বলে বিদেশ মন্ত্রকের দাবি।

২০১৮ সালের এপ্রিলে চীনের উহানে শি-মোদী আলোচনায় ডোকলামের স্নায়ুযুদ্ধ থেকে বেরোনোর প্রয়াস ছিল। এবার মমল্লপুরম সংলাপে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি চীনা ‘ওবর’ প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ, সীমান্ত-জট কাটানো, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারতের ঘাটতির মতো নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথার পক্ষপাতী দিল্লি।

মন্তব্য লিখুন :