গরম পড়লেই কমে যাবে করোনাভাইরাস

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাপী নতুন করে আরও প্রায় ৩৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৮৩ জনে। এছাড়া নতুন আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১০ হাজার ৭৬৯ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত আক্রান্ত সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৯ জনে।

১২৭টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই রোগকে মহামারী ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু এর কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি, রোগনিরোধক বা মৌসুমী টিকা নেই। তবে একটি ক্ষেত্র রয়েছে যাতে বিশেষজ্ঞরা প্রত্যাশা করছেন, ভাইরাসটি ফ্লু’র মতো আচরণ করবে এবং উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চিকিৎসা গবেষক নেলসন মাইকেল বলেন, ‘এটি শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস এবং এগুলো ঠান্ডা আবাহওয়ায় নির্দিষ্ট কারণে আমাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। শীতে আমরা সবাই দরজা-জানালা ইত্যাদি বন্ধ করে ঘরের ভেতরে থাকি। ফলে আমরা প্রায়ই এই সময়কে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু মৌসুম বলি।’

ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠান্ডা ও শুষ্ক অবস্থায় সতেজ হয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে শীতকালকে অনেক সময় ফ্লু মৌসুম বলা হয়। শীতে আচরণগত পার্থক্যেরও প্রভাব থাকতে পারে। নেলসন মাইকেলের ধারণা, করোনা ভাইরাস ফ্লু’র মতো আচরণ করতে পারে এবং আবহাওয়া উষ্ণ হয়ে উঠলে হয়ত প্রাদুর্ভাব কমে যেতে পারে। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলছেন, আবার যখন শীত ফিরে আসবে তখন ভাইরাসটিও ফেরত আসতে পারে।

আশাবাদের জায়গা হলো, বিভিন্ন দেশের সরকার ও জনগণের অভূতপূর্ব পদপেক্ষেপের ফলে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। গরম আবহাওয়ায় বিস্তার কম হলে স্বাস্থ্যসেবা সময় ও সুযোগ পাবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করার এবং একটি সম্ভাব্য টিকা আবিষ্কারের।

নেলসন মাইকেল সতর্ক করে বলেন, ‘এখন আমরা যা কিছু করছি তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের বিস্তার ঠেকানোর জন্যও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’

কিন্তু যদি ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো আচরণ না করে? তাহলে কী বছর জুড়ে আমাদের উচ্চ সংক্রমণ হার মোকাবিলা করতে হবে? সিঙ্গাপুরে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন যেখানে গরম ও উষ্ণ-আর্দ্র চমৎকার আবহাওয়া সারা বছর বিরাজ করে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় এখন গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে রয়েছে, এসব স্থানেও অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।