গুরুদাসপুরে বাড়ছে ফসলি জমিতে পুকুর খনন

নাটোরের গুরুদাসপুরে তিন ফসলি জমিতে অবাধে চলছে পুকুর খনন। অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তিন ফসলি আবাদি জমিতে মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বেড়েই চলেছে অবৈধ পুকুর খনন। উর্বর ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় খাদ্যশস্য উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষিবিভাগ। 

উপজেলার সব ইউনিয়নেই প্রত্যেকটি মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে ক্রমেই কমছে চাষ যোগ্য জমির পরিমান। পাশাপাশি জমে থাকা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে জলবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে ফসলি জমির চার পাশে। বিশেষ করে চাপিলা ইউনিয়নে অনেক মাঠ-ঘাট ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা ব্যাপী যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উপজেলার সকল ইউনিয়নে।

গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. জহুরুল হক জানান, বিয়াঘাটের রাস্তা-ঘাটের অবস্থা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেছে। মাটির গাড়ির জন্য রাস্তায় চলাই কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোরদাবি জানান তিনি। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে সবুজ ফসলের সমারাহ।দেখে দৃষ্টি জুড়িয়ে যায়। অপরুপ সৌন্দর্যের পাশেই চলছে কুমারখালী চরপাড়ায় দুইটি ও চাপিলা বাজার সংলগ্ন চারটি, নাজিরপুর ইউনিয়নের ঝাউপাড়া মাঠে চলছে দুইটি পুকুর খননের কাজ। পুকুর গুলো কাটা হচ্ছে তিন ফসলি জমির ওপর। চাপিলা বাজার সংলগ্ন দুইটি পুকুর কাটাচ্ছেন মো.রুহুল এবং মো.আয়নাল নামের দুই ব্যাক্তি অপর পাশের দুইটি কাটাচ্ছেন মো.হেলাল হোসেন ও মো.মামুন আলী। আর বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে  একটি কাটাচ্ছে ফল ব্যবসায়ী মান্নান। ঝাউপাড়া এলাকায় একটি কাটাচ্ছেন চাপিলা শাহী বাজারের আলমগীর হোসেন আলম ও আরেকটি কাটাচ্ছেন ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি। সাধারন কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে এইসব অর্থলোভী মাটি ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা পুকুর খনন করাতে উৎসাহীত করছে কৃষকদের। 

যে সকল জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে সেখানে ধান গম আখসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হতো। এছাড়াও পাশ্ববর্তী সকল জমিতেই বর্তমানে ধান আবাদ চলমান রয়েছে। 

এ বিষয়ে পুকুর মালিকরা বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই পুকুর খনন করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সকলকে অবগত করেই আমরা পুকুর খনন করছি।

চাপিলা বাজারের একটি পুকুর কাটাচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ী মো.হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রত্যেকটি পুকুর কাটা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল করিম বলেন, গুরুদাসপুরের প্রতিটি এলাকাতেই আবাদি জমিতে পুকুর খনন চোখে পড়ছে। বিশেষ করে চাপিলা,বিয়াঘাট বেশি। অধিকাংশই তিন ফসলি জমিতে পুকুর করা হচ্ছে। এসব ফসলি জমিতে বর্ষাকালে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ছোট মাছ ধরে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। এভাবে পুকুর খনন চলতে থাকলে গুরুদাসপুরে আবাদি জমি একেবারে কমে যাবে। এতে করে পরিবেশসহ ফসলি জমি পড়বে বিপর্যয়ের মুখে।