মালয়েশিয়ার স্কোয়াজ আমতলীতে

মালয়েশিয়ার স্কোয়াজ সবজি এখন বরগুনার আমতলীতে চাষ হচ্ছে। অপরিচিত সবজি হলেও পুষ্টিমান সম্পন্ন এ সবজির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তাই কৃষকরাও ঝুঁকে পড়ছে এই সবজি চাষের দিকে।

এ সবজি চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের মালায়েশিয়া ফেরত বাবুল মোল্লা। তার কাছে সবজি চাষের পরামর্শ নিতে আসছে উদ্যোগী চাষিরা। সরকারিভাবে প্রনোদণা ও পরামর্শ পেলে এ সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হবেন আমতলীতে প্রথম স্কোয়াজ চাসি বাবুল মোল্লা মত স্থানীয়দের।

জানাগেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের কৃষক বাবুল মোল্লা কৃষি ভিসায় ২০০৭ সালে মালায়েশিয়া যান। ওই দেশে কৃষি খামারে কাজ করেন তিনি। ওই খামারে স্কোয়াজ, বেগুন, টমেটো, ঢেঢ়শসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছেন বাবুল। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার সময় স্কোয়াজ, বেগুন ও টমেটোর কিছু বীজ নিয়ে আসেন।

এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাবুল ১৫ শতাংশ জমিতে পরিক্ষামূলকভাবে স্কোয়াজ সবজি চাষ শুরু করেন। তাতেই সফলতা পান তিনি।

বাবুল মোল্লা জানান, স্কোয়াজ গাছে ৪০ দিনে ফলন ধরে। প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফলন হয়। ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্কোয়াজ চাষ করে এ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ২০ হাজার টাকা। স্কোয়াজের বোটা দেখতে কুমড়ার মতো। ভালো ফলন হলেও অর্থ সংকটের কারণে বেশী জমিতে চাষ করতে পারছেন না বলে জানান।

হলদিয়া গ্রামের বেলায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, স্কোয়াজ একটি ভালো সবজি। আমাদের অঞ্চলে এ সবজি চাষ হয় না। বাবুল মোল্লা মালায়েশিয়া খেকে বীজ এনে চাষ করেছেন। ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে এই সবজি তেমন পরিচিত নয় বিধায় মানুষের কিনতে আগ্রহ কম।

আমতলী উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নিখিল কুমার বলেন, এ অঞ্চলে স্কোয়াজ চাষ হয় না। বাবুল মোল্লা মালায়েশিয়া থেকে বীজ এনে স্কোয়াজ চাষ করেছেন। আমি তার স্কোয়াজ ক্ষেত পরিদর্শন করে পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। প্রথমবার হলেও ফলন ভালো হয়েছে।   

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম বলেন, স্কোয়াজ একটি ভালো সবজি। এর পুষ্টিমান অনেক বেশী। কিন্তু আমাদের অঞ্চলে এ সবজি চাষ হয় না। হলদিয়ায় এক চাষী এ সবজি চাষ শুরু করেছে। তাকে এ সবজি চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। এ সবজি চাষে চাষিদের উৎসাহ যোগাতে উদ্যোগ নিয়েছি।