সাপাহারে করলা চাষে কৃষক স্বাবলম্বী

নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার চাষিরা করলা চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। তাদের উৎপাদিত করলা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন  জেলায়। দাম ভালো থাকায় করলা বিক্রি করে অনেকেই এখন হাসি খুসি জীবন যাপন করছে।

আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চিনবে সাপাহারকে, এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষক মন্ডলী। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষিরা করলা সবজি চাষে উৎসাহীত হয়ে তাদের হাই ব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করত।

পরবর্তীতে সাপাহারে করলা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কাঁচা তরিতরকারীর ব্যাবসায়ীরা ছুটে চলে আসেন সাপাহারে। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করলা চাষিদের সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠে অস্থায়ী বাজার। ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকার চাষিরা তাদের উৎপাদিত করলা নিয়ে চলে আসে এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামেক্রয় করে মিনি ট্রাক যোগে নিয়ে যায় নিজ গন্তব্যে।

বর্তমানে প্রতি মণ করলা ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়দাম সামনে কিছুটা বৃদ্ধি পবে বলেও অনেক চাষি মনে করছেন।
ঢাকার কারওয়ান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যাবসায়ী বলেন, সাপাহারের করলার গুনগত মান ভালো ও এখান থেকে করলা কিনে লাভ ভালো হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে আসেন।

স্থানীয় করলা চাষি উকিলবাবু, আনারুল,  ছয়ফুল ও আব্দুল মালেক বলেন, করলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন উপজেলার অনেক চাষি। করলা চাষে লাভও বেশি ও শ্রম কম। তাই অনেকেই এখন করলা চাষে ঝুকছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন অফিসার আতাউর রহমান সেলিম বলেন, কয়েক বছর ধরে করলা চাষ এ উপজেলায় নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশী, হাইব্রীড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করলা চাষাবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।