বকশীগঞ্জে সবজি চাষে হালিমা বেগমের বিপ্লব

জামালপুরের বকশীগঞ্জে কৃষি ক্ষেত্রেও অবদান  রেখে স্বাবলম্বী হয়েছে হালিমা বেগম এক পরিশ্রমী নারী। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর পরিবেশবান্ধব সবজি চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আত্মবিশ্বাস আর কঠোর পরিশ্রেমে তিনি এখন সফল সবজি চাষী। 

পুরুষ শাসিত সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মাঠে কাজ করে হালিমা বেগম একজন স্বাবলম্বী কৃষক।  গত জুন মাসে  ৯০ শাতংশ জমিতে সবজি চাষ করেন হালিমা।  জুলাইয়ে ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় তার সবজি ক্ষেত। কিন্তু দমে যাননি অদম্য এ নারী। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দেড় বিঘা জমিতে শসা, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা ও ১৩ শতাংশ জমিতে ঢ়েড়স চাষ করেন। সবজি চাষে তার ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। 

বর্তমানে তার সবজি উঠা শুরু হয়েছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোষ্ট ও জৈব সার ব্যবহার করায় হালিমার ক্ষেতের সবজির চাহিদা অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি নিজেই  জৈব সার উৎপাদন করেন। তাকে সহায়তা করেন স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।

দিনমজুর তোফাজ্জলের সংসার চলত অত্যান্ত অভাব অনটনের মধ্যে। অন্যের কাজ করে যা রোজকার করতেন তা দিয়ে কোন মতে দিন পার হতো তোফাজ্জলের পরিবারের। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে।

উপায়ন্তর না দেখে পূর্ব কলকিহারা সূর্যউদয় উন্নয়ন সংঘ নামে গ্রাম ভিত্তিক সংগঠনে (সিবিও) উৎপাদক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের পরামর্শ ও তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন হালিমা বেগম।

২০১৮ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম বকশীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কাজ শুরু করলে ভাগ্য খুলে যায় হালিমা বেগমের। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের মাধ্যমে হালিমা বেগমকে বিভিন্ন সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে অন্যের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন নিজ উদ্যোমে। উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষের জন্য কৃষি প্রদর্শনী প্লট, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ এর জন্য ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এতে করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন হালিমা বেগম।

গত জুলাইয়ের বন্যায় তার সবজি ক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হলে বন্যার পর ফের শসা ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। ইতোমধ্যে তার উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত থেকে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা উঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

হালিমা বেগম উন্নয়ন সংঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে সার্বিক সহযোগিতায় পাওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অনুকূলে থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নারী সবজি চাষী হালিমা বেগম জানান, সবজি চাষ করেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমার দেখাদেখি অন্য নারীরার সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও এখন সবজি চাষ করছেন।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর আজাদ জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর হালিমা বেগমকে ফসল উৎপাদন সম্পর্কে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের এক জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবজি উৎপাদনে কোন সমস্যা হচ্ছে কি না তার খোঁজ খবর রাখেন।