মানিকগঞ্জে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ চাষিরা

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌ চাষিরা। মৌ চাষের মাধ্যেমে সংগৃহীত মধু বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হতাশায় ভুগছেন তারা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা চাষ বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌ চাষিদের ভিরও বাড়ছে। সরিষার হলুদ রংয়ের ফুলে ভরে উঠেছে দিগন্ত জুড়া মাঠ। হুলুদ ফুলে ভরা এ সরিষা মাঠকে ঘিরে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে মৌ চাষিরা। সরকারী পৃষ্টপোষকতা থাকলে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে বলে জানান মৌ চাষিরা।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার কুষ্টিয়া, সাতক্ষিরা নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়  অর্ধশত মৌ চাষির দল মানিকগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চলে এসে মৌ মাছির মাধ্যমে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। এরা ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে তাদের সংগৃহিত মধু। এতে একদিকে দেশের বেকার সমস্যা দুর হচ্ছে অপরদিকে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে আসছে। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ। আবহাওয়া ভাল থাকলে এ সময় একেক জন মৌ চাষী প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০/১২ মন মধু আহরন করতে পারে। এতে দেখা গেছে একজন মৌ চাষী সরিষার এ মৌসুমে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মন মধু সংগ্রহ করবে। পাইকারী দরে যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।

সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌ চাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, মৌ চাষের মাধ্যেমে সরিষা, ধনিয়া, কালোজিড়া, গুজিতিলসহ বিভিন্ন প্রকার রবি ফসলের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এভাবে বছরে ৭ মাস বিপুল পরিমান মধু সংগ্রহ করা যায়। আমাদের দেশে মধু আহরনের  অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৌচাষের মাধ্যমে মধু আহরন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো। দেশে বর্তমানে প্রচুর পরিমানে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু আহরোন হচ্ছে। সরকার যদি চিংড়ি মাছ রপ্তানির মতো বিদেশে মধু রপ্তানির ব্যবস্থা করতো তাহলে মৌ চাষী ও ব্যাবসায়ীসহ সবাই লাভবান হতো। দেশে প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো।

সিরাজুল ইসলাম আরো জানান, বিগত ১২ বছর ধরে মৌচাষ করে মধু সংগ্রহের কাজ করছেন। প্রথমে আমি অন্যের সাথে তিন বছর কাজ করি এবং এ ব্যবসা সম্পের্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করি। এরপর বেসিক থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে প্রথমে ২০ টি বাক্সের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা পুজি খাটিয়ে ২০০৮ সাল থেকে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমার ১৩০টি বাক্স দিয়ে মৌ চাষের মাধ্যমে মধূ সংগ্রহের কাজ করছি। এখানে ৬জন বেকার যুবক কাজ করছে। নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ৭ মাসে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০লাখ  টাকা আয় করা যায়। এভাবে প্রতি মাসে ১৩০টি বাক্স থেকে প্রায় ৩২ মন মধু  সংগ্রহ করা সম্ভব। যার পাইকেরি মূল্য প্রায় ১লাখ ৯২হাজার টাকা।

নারায়নগঞ্জ থেকে আসা নিউ ইশাখাঁ মৌ খামারের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালে বিসিক থেকে ট্রেনিং নিয়ে ১লাখ ২০হাজার টাকা পুঁজি খাটিয়ে ২০টি বাক্স নিয়ে মৌ-মাছির চাষ করে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাক্স সংখ্যা ১৯০টি। সরিষার ফুল থেকে প্রতি সপ্তাহে তিনি ৬/৭ মন করে মধু সংগ্রহ করছেন। সংগৃহিত এসব মধু এপি কোম্পানিসহ ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্থান, গাজিপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী দোকানে সরবরাহ করে থকেন। আমদের দেশে প্রায় ৩ হাজার মৌ-খামারী রয়েছে। এরা ৭ মাসে প্রায় ৩০ হাজার টন মধু আহোরন করে থাকে। এসব মধু বাজারজাত করার জন্য ভাল কোন ক্ষেত্র না থাকায় প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেনা খামারীরা। মহাজনদের সিন্ডিকেটের কারনে তারা মধুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। মহাজনরা তাদের কাছ থেকে কমমূল্যে মধু ক্রয় করে তিন চার গুন বেশী মূল্যে বিক্রি করছে। অনেক সময় বাকীতে মহাজনদের মধু দিয়ে টাকা পয়সা উঠানো কষ্টকর হয়ে পড়ে।