ক্যাপসিকাম চাষে সফল মামা-ভাগ্নে

ঝিনাইদহের মহেশপুরের সীমান্তবর্তী কুসুমপুর মাঠপাড়া এলাকায় প্রথমবারের মতো ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হয়েছেন মামা সুলতান মাহমুদ ও ভাগ্নে আলমগীর কবির। ইতোমধ্যে বাগানের সবজি বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন তারা। সামনে আরও লাভের আশা তাদের।

জানা যায়, শুরুতে বাংলাদেশি কিছু বীজ থেকে চারা তৈরির চেষ্টা করে আসেনি সফলতা। এরপর কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বীজ এনে বীজ তলা দেওয়া হয়। সেখান থেকে ১৫শ চারা তিন একর জমিতে রোপণ করা হয়। এর দু-মাস পর থেকেই শুরু হয় সবজি সংগ্রহ। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে বীজ ছিটানোর পর নভেম্বর মাস থেকেই জমি তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে চারা রোপণ শুরু হয়।

ক্যাপসিকাম চাষি মামা সুলতান মাহমুদ জানান, বিদেশি এই ফসলের জন্য তাপমাত্রা লাগে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এখানে অনেক সময় কম-বেশি হয়েছে তবুও আমাদের ফলনের কমতি হয়নি। এ বছর বাংলাদেশের কোথাও ক্যাপসিকামের ভালো ফলন হয়নি। কিন্তু আমাদের ফলন হয়েছে ভালো।

তিনি আরও জানান, এক একর জমিতে ১৫শ গাছ লাগিয়েছিলাম। তবে সেখান থেকে ৭শর মতো গাছ মারা গেছে আর বাকিটা থেকে সবজি সংগ্রহ চলছে। প্রতি গাছে ১২ থেকে ১৫টি সবজি আছে যার ৫ থেকে ৬টিতে এক কেজি হচ্ছে। পাইকারি এই সবজি ঢাকাতে অর্ডারে পাঠায় ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭শ কেজি পাঠানো হচ্ছে ঢাকাতে। এই ক্যাপসিকাম আরও প্রায় ১২০ দিন সংগ্রহ করা যাবে ক্ষেত থেকে। অনেক গাছেই নতুন করে ফুল থেকে ফল আসছে।

অপর চাষি ভাগ্নে আলমগীর কবির জানান, ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি হয়েছে। আরও ৬ লক্ষাধিক টাকা বিক্রির আশা রয়েছে। সাধারণত ক্ষেত থেকে তুলে সবজিগুলো প্যাকেজিং করে ঢাকাতে পাঠানো হয়। কৃষি কর্মকর্তারা সব সময়ই আমাদের ক্ষেতে আসছেন, খোঁজ খবর নিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। ফলে আমরাও তাদের পরামর্শে কাজ করে ফলাফল ভালো পাচ্ছি।

উপজেলার স্বরূপপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল কবির জানান, ক্যাপসিকামের মূল শত্রু এফিড-জ্যাসিড জাতীয় কিছু পোকা। আর এই পোকা দমনে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষমুক্ত ইয়োলো ও ব্লু ট্রাপ। এই পোকা না লাগলে ফলন হয় অনেক ভালো।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, আমদানিকৃত ক্যাপসিকামের তুলনায় আমাদের উৎপাদিত ক্যাপসিকামের গুণগতমান অনেক ভালো। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এটি বিদেশে রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীতে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই চাষ বৃদ্ধিতে পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ক্ষেতে এনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে যখন চাষটি শুরু হয়েছিল তখন অনেক গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল স্থানীয়দের মধ্যে। কিন্তু সেই গুঞ্জনকে পেছনে ফেলে আমাদের সফলতা এসেছে। তাই অবশ্যই আমরা বলতে পারি এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।