পুঠিয়ায় ধানের আবাদ কমছে, মাছ-ভুট্টা চাষ বাড়ছে

রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষে আগ্রহ নেই স্থানীয় চাষিদের। কৃষকরা বলছেন, ধানের মূল্যে হ্রাস, দ্বিগুণ পারিশ্রমিকেও যথা সময়ে শ্রমিক সংকট, তেল-বিদ্যুৎ ও কৃষি উপকরণের মূল্যে বৃদ্ধির ফলে তারা দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। যার করণে গত বছরের তুলতায় এবার প্রায় অর্ধেক জমিতে বোরো ধান রোপন হয়েছে।  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন এলাকায় প্রায় ১৯০টি গভীর ও ৩শতাধিক অগভীর নলকূপ রয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপন করা হলেও চলতি মৌসুমে রোপন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি কর্মকর্তারা জনিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক কম জমিতে ধান রোপন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিলমাড়িয়া এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, গত বছরের উৎপাদিত ধান খরচের অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে। এবার আবারো দ্বিগুণ অর্থ খরচ করে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে বাজারে ৬৮০ থেকে শুরু করে ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে। আবার চিকন জাতের ধান আরেকটু বেশী দরে বেচা যায়। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষে বীজ, লেবার, পানির দাম, সার আনুষাঙ্গিক খরচসহ প্রায় ১২/১৫ হাজার টাকা। আমরা যে অর্থ ব্যয় করে বোরো ধান রোপন করি তা বিক্রি করে খরচের অর্ধেক টাকাও এখন আসে না। এবার অনেকেই ধান চাষের পরিবর্তে ভুট্টা, পাট চাষ করছেন।

জিউপাড়া এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, উৎপাদিত পণ্যে বিক্রি করে আমরা সঠিক মূল্যে পাচ্ছি না। দিন যতই যাচ্ছে ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়েই চলছে। যার কারণে অনেক কৃষক ধানের জমি গুলোতে পুকুর খনন করছেন। বর্তমানে ফসল উৎপাদনের চেয়ে মাছ চাষ অনেক লাভজনক। যার কারণে অনেক চাষিরা নিজেরা মাছ চাষ করছেন অথবা পুকুর ইজারা দিয়ে বছর শেষে মোটা অংকের অর্থ পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুনাহার ভূঁইয়া বলেন, চাষিরা এ বছর খরচের চেয়ে ধানের মূল্যে কম পেয়েছেন। এবার যে পরিমাণ ধান রোপন হয়েছে তা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তবে ধান রোপনের সময় আছে। আরো কিছু ধানের জমি বাড়তে পারে। তবে চাষিরা ধানের ওই জমিগুলোতে এবার পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা চাষ করেছেন।