পীরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে আম চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার উত্তর গুয়াগাঁও, ভেমটিয়া, বিরহলী, ভেলাড়ৈড়, চাপোড়, মালঞ্চাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে আম চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে শত শত আম বাগানসহ বিভিন্ন গাছপালা। বিধ্বস্ত অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা বাড়িঘর। ক্ষতি হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। 

বুধবার (২৭ মে) রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গতকাল বুধবার রাতের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। গাছ ভেঙে পড়ে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তার যান চলাচল। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে চাপা পড়ে অনেক বাড়িঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম, কাঁঠাল, লিচুসহ ফসলের ক্ষেত। বাড়িঘর ভেঙে যাওয়ায় অনেকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

একাধিক চাষিরা জানান, আম, লিচু, কাঁঠালসহ অসংখ্য বনজ গাছ উপড়ে গেছে এবং ডাল ভেঙে প্রায় ন্যাড়া হয়ে গেছে। এদিকে বোরো ও ভুট্টা ক্ষেত বাতাসে মাটির সাথে নুয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে পুঁজি হারিয়ে চাষিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাই প্রশাসন ও সরকারের কাছে প্রণোদনা ও সহায়তার দাবি জানিয়েছে বাগান মালিক ও চাষিরা।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার জানান, আমাদের ১১শ' ৫০ হেক্টর আম বাগান আছে, তার মধ্যে ২৫ হেক্টর আম বাগানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও আম বাগান চাষিদের ১৫ দিন আগে তালিকা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে যারা বাদ পড়েছে তারা কৃষি অফিসে এসে যোগাযোগ করে তাদেরও তালিকা করতে পারবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, এই বিষয়ে কৃষি অফিসারের সাথে কথা হয়েছে। ঝড়ে যে ক্ষতি হয়েছে তা কৃষি অফিসের লোকজন দেখছেন। প্রয়োজনে আমি যাব এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষক-চাষিদের সহযোগিতা করা হবে।