কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলন

পেঁয়াজ বীজে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উচ্চফলনশীল লাল তীর কিং জাতের পেঁয়াজ বীজের চাষ। এ বীজ সংগ্রহ ও বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার মধ্যে সব কয়টি উপজেলায় কিছু কিছু এলাকায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করলেও কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক মাত্র ২টি উপজেলায় পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। উপজেলা ২টি মধ্যে রয়েছে কুমারখালী উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমি এবং খোকসা উপজেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে বীজ আবাদ হয়েছে।

মোট ৯৮ হেক্টর জমিতে বীজ আবাদের তালিকা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে অন্যান্য উপজেলাতেও বীজ আবাদ  হলেও তা কৃষি অফিসের তালিকায় নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় বীজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বীজ চাষিরা পেঁয়াজের বীজ বিক্রি করে পারিবারিকভাবে সচ্ছলতা আনতে পারবে। যে হারে বীজ উৎপাদন হয়েছে তাতে করে জেলায় বীজের সংকট থাকবেনা। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে  ৭০ মেঃটন  পেঁয়াজ বীজ। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, উচ্চফলনশীল লাল তীর কিং  জাতটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে তাহেরপুরি নামে পরিচিত। এ জাতের ১ কেজি বীজে প্রায় ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা যায়। যা স্থানীয় জাতের বীজের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

কৃষি অফিস সূত্রের বাহিরে কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী মাঠেও পেঁয়াজ বীজ আবাদ হয়েছে। পেঁয়াজ বীজের কদম ফুলে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। এই মাঠে কয়েক হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জনৈক এক কর্মকর্তাকে বাড়াদী মাঠ সম্পর্কে বলা হলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন তাদের তালিকায় এই মাঠের হিসেব নেই। এ ভাবেই আরো ৪টি উপজেলার মাঠে প্রান্তে যে সব পেঁয়াজ বীজ আবাদ হচ্ছে তার কোন সংবাদই তাদের কাছে নেই।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সঠিকভাবে মাঠে জান না বা চাষিদের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ না করায় তারা ঘরে বসে তথ্য প্রদান করার কারণেই মাঠের সঠিত তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাচ্ছেন না বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।

বাড়াদী গ্রামের পেঁয়াজ বিজ আবাদকারী কৃষক হাসান আলী জানান, তিনি তার প্রায় ৪  বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। মূল্য পেলে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষক নওশের আলী বলেন, তিনিও দেড়  বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ আবাদ করেছেন তিনি। বীজ ভালো হয়েছে। বীজের সঠিক দাম পেলে ভালো লাভবান হবেন।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান,  এ বছর আবহওয়া অনুকূলে থাকায় পেঁয়াজের দানা ভালো হয়েছে। আশা করি চাষিরা ভালো দাম পাবে।