উদ্বোধনের ১০ মাসেও উৎপাদনে যেতে পারেনি এসেনশিয়াল ড্রাগস

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হলেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে যথাসময়ে উৎপাদনে যেতে পারেনি এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্প (তৃতীয় প্রকল্প)। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে উদ্বোধন করেন এটি। কথা ছিল পরদিন থেকেই উৎপাদনে যাবে প্রকল্পের একটি ইউনিট। উৎপাদন হবে পেনিসিলিন জাতীয় ১১ প্রকারের ওষুধ। কিন্তু, উদ্বোধনের ১০ মাস পার হলেও পেনিসিলিন ইউনিটটি চালু হয়নি।

এদিকে, এখনো ভারত এবং ইতালি থেকে আসেনি ব্লিস্টার মেশিন। এই মেশিন স্থাপন ছাড়া উৎপাদনে যেতে পারবে না ইডিসিএল’র এই প্রকল্প। যে কারণে গোপালগঞ্জবাসীর মনে সংশয় রয়েছে আদৌ কি উৎপাদনে যেতে পারবে এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্প ?

সরেজমিনে এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, পেনিনিসলিন ইউনিটটি এখনো উৎপাদনের জন্য প্ররোপুরি প্রস্তুত হয়নি। স্থাপন সম্পন্ন হয়নি বিদেশ থেকে আমদামিকৃত মেশিন গুলির। বসানো হয়নি লিফট্, সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়নি অপারেটর, কর্মচারীদের। এছাড়া ওই প্রকল্পের আয়রন ট্যাবলেট উৎপাদন ইউনিট, আই ভি ফ্লুইড উৎপাদন ইউনিট ও জন্ম বিরতিকরণ পিল উৎপাদন ইউনিটের অবকাঠামোগত কাজ অনেকটা শেষ হলেও সেখানে মেশিনারি মালামাল স্থাপনের কাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, এখনো ভারত এবং ইতালি থেকে আসেনি ব্লিস্টার মেশিন। অথচ প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও টেকনিশিয়ান প্রকল্পটিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে, যাদের উৎপাদন শুরুর আগে অলস সময় কাটানো ছাড়া কোন কাজই নেই সেখানে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটিতে ৪টি ইউনিট থাকবে, যার একটিতে তৈরী হবে পেনিসিলিন, অপরটিতে আই ভি ফ্লুইড ইনজেকশন। তৃতীয়টিতে জন্ম বিরতিকরণ পিল ও অন্যটিতে আয়রন ট্যাবলেট। আর এ প্রকল্পটি চালু হলে এখানে ইডিসিএল’র বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ৭৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যোগদান করানো হবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ইডিসিএল গোপালগঞ্জ প্রকল্পের ব্যাবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মি. মনোরঞ্জন বলেন, অতি শিগগিরই ভারত ও ইতালি থেকে ব্লিস্টার মেশিন আসবে। এই মেশিনটি স্থাপন করা হলে এক এক করে সবকটি ইউনিট পর্যায়ক্রমে উদ্বোধনে যাবে।

এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা.এহসানুল কবির জগলুল এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত উন্নতমানের দামি মেশিন স্থাপন করতে কিছুটা সময় বেশী লেগেছে। তাছাড়া বুয়েটসহ দেশের নামী-দামী ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের দক্ষ প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান দ্বারা সেগুলি যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আশা করছি এ বছরেরই ডিসেম্বর মাসে পেনিসিলিন ইউনিটটি উৎপাদনে যাবে এবং জানুয়ারি থেকে সবকটি ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে এখানে দেশের সব থেকে উন্নত মানের ওষুধ তৈরী হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া এই প্রকল্প সংলগ্ন উত্তর পাশের ৮ একর জায়গা অগ্রিহণের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। ওই জায়গা পাওয়া গেলে প্রকল্প সম্প্রসারণ করে ওয়ার হাউস, বর্জ শোধনাগার পুকুর, আবাসিক ভবন নির্মাণ করে পূর্ণাঙ্গ রুপ নেবে এসেনশিয়াল ড্রাগস্ লিমিটেডের গোপালগঞ্জ প্রকল্প।